fbpx

ট্রেভর নোয়া’র স্মৃতিকথা | পর্ব ২

এপার্টহেইড ছিল আদর্শ বর্ণবাদ। শতাব্দির পর শতাব্দি জুড়ে এর বিবর্তন হয়েছিল। এর শুরুটা হয়েছিল ১৬৫২ সালে যখন, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ‘কেইপ অব গুড হোপ’ অন্তরীপে নোঙ্গর ফেলেছিল। তারা এই জায়গার নাম দেয় ‘কাপস্টাড’, যা ক্রমে পরিচিত হয় কেপটাউন নামে। কেপটাউন ছিল ইউরোপ আর ভারত যাবার পথে বিশ্রামের জায়গা। ডাচ কলোনিস্টরা স্থানীয়দের নিজেদের আয়ত্ব আনতে আর তাদের দাসত্বে আবদ্ধ করতে কিছু আইন প্রনয়ন করে। ডাচদের হারিয়ে যখন ব্রিটিশরা অঞ্চলের দখল নেয়। তখন ডাচরা আরো গভীরে চলে যায়। সেখানে তারা তাদের নিজস্ব ভাষা, রীতিনীতি, ঐতিহ্যর জন্ম দেয়। আর আফ্রিকা মহাদেশ পেয়ে যায় তার একমাত্র সাদা গোত্র। – দ্য আফ্রিকানার্স।

 

ব্রিটিশরা নামে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করলেও এর অনুশীলন তারা ঠিকই চালিয়ে যেত। তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই এমনটা করেছিল। ১৮ শতকের দিকে একদল ব্যবসায়ী এই নির্জীব অন্তরীপে পৃথিবীর বৃহতম সোনা আর হীরা খনি খুজে পেয়েছিল। ব্যবসায়ীদের এই বিশাল রত্নভান্ডার তুলতে কিছু অবচয়যোগ্য মানবদেহের দরকার ছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যর পতনের পরপরই আফ্রিকানার্সরা দক্ষিণ আফ্রিকার উপর নিজেদের করায়ত্ত পোক্ত করায় নেমে পড়ে। তারা বুঝেছিল দেশের সংখ্যাগুরু আর অস্থির প্রকৃতির কালো মানুষগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে একেবারে আনকোরা কোনো পদ্ধতি লাগবে। তারা একটি কমিশন গঠন করে, যার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ নিয়ে সার্ভে করে। তারা অস্ট্রেলিয়া যায়, নেদারল্যান্ডসে যায়, আমেরিকায় যায়। আর দেখে কোন টেকনিক কাজ করছে আর কোনটা কাজ করছে না। তারা দেশে ফিরে একটা রিপোর্ট জমা দেয় আর সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয় মানব ইতিহসের সবচেয়ে অত্যাধুনিক বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা।

এপার্টহেইড ছিল একটা পুলিশি রাষ্ট্র, যেখানে নজরদারি আর আইনের মাধ্যমে কালো মানুষদের দমিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই আইনগুলোর সংক্ষিতপ্তসার আকারে প্রায় ৩০০০ পৃষ্ঠা আর ওজনে ১০ পাউন্ডের মত হবে। যদি আমেরিকার উদাহরণ দেই, সেখানে প্রথমে স্থানীয়দের উচ্ছেদ করা হয়েছিল, তারপর দাসপ্রথা এসেছিল আর সবশেষে সেগ্রিগেশন বা কালোদের সাদাদের থেকে সামাজিভাবে পৃথক করে তাদের উন্নতির পথ আটকে রাখা হয়েছিল। এবার ভাবুন, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই তিন পদ্ধতি একসাথে চলছিল। এপার্টহেইড ছিল এতটাই নির্মম।

 

২য় অধ্যায়ঃ বর্ন ক্রাইম

আমি এপার্টহেইডের সময় জন্মেছিলাম, যা ছিল বেশ অদ্ভুত। কারণ, আমি একটা মিক্সড পরিবারে জন্মছিলাম, যেখানে আমিই একমাত্র মিক্সড সদস্য। আমার মা প্যাট্রিসিয়া নুম্বইসেলো নোয়া ছিলেন কালো। আর বাবা রবার্ট একজন সুইস-জার্মান শ্বেতাঙ্গ। এপার্টহেইডের সময় অন্যতম গর্হিত কাজগুলোর একটা ছিল, ভিন্ন বর্নের কারো সাথে সেক্স করা। বলাবাহুল্য, আমার বাবা-মা ঠিক সেই কাজটাই করেছিলেন।

বর্ণবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা একটা সমাজ ব্যবস্থায় দুটি ভিন্ন বর্নের মানুষের মিলন, এই ব্যবস্থাকে যে নিছক অনায্য প্রমাণ করে তা নয়, এটি একই সাথে এই ব্যবস্থার অসংলগ্নতা আর বাতুলতা প্রকাশ করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, দুটি বর্ণের মানুষের পক্ষে শুধু মেশা সম্ভবই না বরং তারা মিশতেও ইচ্ছুক। আমার মত মিক্সড লোকেরা তাই এই সিস্টেমের উপর একটা তিরস্কার হিসাবে গণ্য হত। আর বর্ণ-মিশ্রণকে রাজদ্রোহের চেয়ে জঘণ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হত।

কিন্তু মানুষ আর সেক্সের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কোনো বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারলো না। দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ জাহাজ নামার ৯ মাস পরই সেখানে মিশ্র শিশুদের দেখা গিয়েছিল। একই কথা আমেরিকানদের ক্ষেত্রেও খাটে। সেখানে ইউরোপিয়ানরা স্থানীয় নারীদের ঘরে সন্তান জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার সাথে পার্থক্য হল, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই মিশ্র শিশুদের একটা নতুন ক্যাটাগরিতে ফেলা হল। না সাদা, না কালো। তাদের বলা হল’ কালার্ড’ (Colored)। এই সাদা, কালো, কালার্ড আর ভারতীয়দের সরকার তাদের বর্ণের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনে বাধ্য করলো। লাখ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হল। ভারতীয়দের কালোদের থেকে আলাদা করা হল। কালোদের কালার্দদের এলাকা থেকে। আবার এসব এলাকার মাঝে কিছু খালি জায়গা রেখে বাফার জোন তৈরি করা হল। ইউরোপীয় আর স্থানীয়দের মধ্যে যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হল, যা পরে বদলে অশ্বেতাঙ্গদের সাথে শ্বেতাঙ্গদের কথা বলা হয়। এই অদ্ভুত আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার প্রায় উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। আইন ভাঙার শাস্তি ছিল ৫ বছরের জেল। সরকার রীতিমত পুলিশের একটা স্কোয়াড মোতায়েন করেছিল, যাদের কাজ ছিল লোকের বেডরুমে উঁকি দেয়া। আর যদি কোনো মিক্সড কাপল ধরা খেত, ঈশ্বর তাদের সহায় হন। পুলিশ তাদের দরজা ভেঙে টেনে হিচড়ে, পেটাতে পেটাতে নিয়ে আসতো। অন্তত লোকটা যদি কালো হত, তবে তার কপালে এমনটাই জুটত। আর সাথের শ্বেতাঙ্গ পার্টনারকে পুলিশ এই বলে সতর্ক করে দিত,” আমি রিপোর্ট করবো তুমি মাতাল ছিলে। কিন্তু আর কক্ষনো এমন করো না। বুঝলে? চিয়ার্স।” এমনটাই হত যদি লোকটা সাদা আর মেয়েটা কালো হত। কিন্তু যদি মেয়েটা সাদা আর ছেলেটা কালো হত, তবে ওকে ধর্ষণের মামলা পর্যন্ত খেতে হত।

আপনি যদি আমার মাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি এপার্টহেইডের মধ্যে একটা মিক্সড বাচ্চা নেবার পরিণতির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিলেন কিনা? তিনি বলবেন, না। তিনি এমনটি চেয়েছিলেন, তার জন্য মনস্থির করেছিলেন, করার উপায় বের করে ফেলেছিলেন। এমন কিছু করার জন্য যে পরিমাণ সাহস দরকার, তা তার মধ্যে ছিল। আসলে ভয় পেলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তারপরও এটা ছিল একটা পাগলামি। আমাদের এই গ্যাঁড়াকল থেকে বাঁচতে হাজারটা সৌভাগ্যর দরকার ছিল আর আমরা পেয়েওছিলাম।

এপার্টহেইডের সময় যদি আপনি কালো পুরুষ মানুষ হন, তবে আপনার ঠিকানা কোনো খামার অথবা ফ্যাক্টরি অথবা কোনো খনি। আর আপনি যদি কালো নারী হন, তবে আপনার ঠিকানা হবে কোনো ফ্যাক্টরি অথবা গৃহকর্মী হওয়া। এর বাইরে আপয়ান্র জন্য আর তেমন কোনো সুযোগই নেই। তিনি কারাখানায় কাজ করতে চাননি। তার রান্না ছিল ভয়াবহ রকমের বাজে। আর তিনি কখনোই ঘাড়ের উপর কোনো শ্বেতাঙ্গ নারীর বকবকানি সহ্য করার মত মানুষ ছিলেন না। তিনি তার স্বভাবসুলভ ঠিক উল্টো কাজটাই করলেনঃ তিনি সাচিবিক বিদ্যা আর টাইপিং এর উপর কোর্স করে নিলেন। সে সময় কোনো কালো নারীর টাইপিং কোর্স করা অনেকটা কোন অন্ধ ব্যক্তির ড্রাইভিং কোর্স করার মতই ব্যাপার। এটা প্রশংসার দাবী রাখে কিন্তু চাকরি পাবার সম্ভাবনা ছিল একেবারেই ক্ষীণ। আইনত সব উচ্চ বেতন আর দক্ষ শ্রমের চাকরিগুলো সাদাদের জন্য বরাদ্দ ছিল। কালোরা অফিসের চাকরি নিতে পারতো না। কিন্তু আমার মা ছিলেন স্বভাবে বিদ্রোহী আর তার বিদ্রোহ সঠিক সময়েই এসেছিল।

 

আশির দশকের শুরুতে যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় কালদের উপর চলমান নৃশংসতা আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন শুরু হয় তখন সরকার এসব ঢাকতে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন আনে। তারমধ্যে একটা হল কালোদের ছোটখাট কিছু চাকরি করতে দেয়। যেমন, টাইপিস্টের কাজ। আমার মা একটা এজেন্সির মাধ্যমে তেমন একটা চাকরি পেয়ে গেলেন। আইসিআই নামে একটা মাল্টিন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে, জোহানেসবার্গ শহরতলীর কাছে ব্লুমফন্টেইনে এটি অবস্থিত। চাকরি করা অবস্থায় মা সোয়েটোতে তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। বহুবছর আগে তাদের এখানের স্থানান্তরিত করা হয়। আমার মা সেখানে মোটেও খুশি ছিলেন না। তার বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখন তিনি জোহেনেসবার্গে এসে থাকা শুরু করলেন। কিন্তু এতে একটা সমস্যা ছিল। জোহেনেসবার্গে তখন কালোরা নিষিদ্ধ ছিল।

এপার্টহেইডের মূল লক্ষ্য ছিল, দক্ষিন আফ্রিকাকে একটা সাদাদের দেশে পরিণত করা। যেখানে সব কালো মানুষদের তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাদের বান্তুস্তান্স নামে কিছু আধা-সার্বভৌম এলাকায় স্থানান্তর করা। যা মূলত ছিল প্রিটোরিয়া সরকারের কিছু পুতুল রাষ্ট্র। কিন্তু এই তথাকথিত সাদের দেশ, কালোদের সস্তা শ্রমছাড়া টিকতে পারতো না। তাই, কালোদের জন্য সাদাদের শহেরের আশেপাশেই বিভিন্ন বস্তিতে থাকার ব্যবস্থা করা হল। যেমন, সোয়েওটো। এটা একটা মফস্বলের মত। যেখানে শুধুমাত্র শ্রমিকদের সেখানে থাকার অধিকার ছিল। কোনো কারণে কাগজপত্র বাতিল হলে, তাদের ঘাড় ধরে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হত। সেখানে থেকে শহরে যেতে হলে পাসের পাশাপাশি আইডি সাথে নেয়া লাগতো। আর না নিলে সোজা এরেস্ট। এছাড়া কারফিউর ব্যবস্থা ছিল। যেমন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর কালোরা সেখানে থাকতে পারতো না। আমার মা এসবের তোয়াক্কা করেননি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর কখনো গ্রামে ফিরে যাবেন না। তিনি শহরে থাকার বন্দোবস্ত করে ফেললেন। তিনি বাথরুম রাত কাটাতেন যতদিন না তিনি অন্য কালো নারীদের থেকে শহরে ঘুরে বেড়াবার কৌশলগুলো শিখে নিলেন। সেইসব নারীদের সবাই ছিল পতিতা।

শহরের অনেক পতিতাই ছিল ঠোসা। তারা আমার মায়ের ভাষায় কথা বলতেন আর আমার মাকে শহরে টিকে থাকার বিভিন্ন কৌশল শেখাতেন। তার মাকে শিখিয়েছিলেন কিভাবে গৃহকর্মীর পোশাক পরে শহরে অনায়েসে ঘোরা যায়। তারা তাকে অনেক শ্বেতাঙ্গদের সাথে পরিচিয় করিয়ে দেন, যারা কালোদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিত। এরা বেশিরভাগই ছিল বিদেশি। জার্মান, সুইস, পর্তুগিজ যারা আইনের তোয়াক্কা করতো না। তার ফ্ল্যাট লিজ দিয়ে টাকা আয় করতেই খুশি ছিল। আমার মায়ের ফ্ল্যাট ভাড়া নেবার মত টাকা ছিল। তিনি পরিচিত এক জার্মানের থেকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। আর সাথে একসেট গৃহকর্মীর পোশাক কিনে ফেলেন। তিনি অসংখ্যবার আইডি ছাড়া বের হবার জন্য গ্রেফতার হন। তিনি শ্বেতাঙ্গদের এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। যার শাস্তি ছিল ৩০ দিনের জেল অথবা ৫০ র‍্যান্ড জরিমানা। যা প্রায় তার মাসের বেতনের অর্ধেক। তিনি টাকা যোগার করতেন, জরিমানা গুনতেন তারপর আবার আগের কাজে ফিরে যেতেন।

 

আমার মায়ের ফ্ল্যাটটা যে পাড়ায় ছিল, তার নাম হিলবারো। ফ্ল্যাট নং ২০৩। সেই ফ্লোরের করিডোর বেয়ে আরেকটা ফ্ল্যাট ২০৬। সেখানে বাদামী চুল আর চোখের এক সুইস-জার্মান নাগরিক থাকতেন। দীর্ঘদেহী, স্বল্পভাষী। তার নাম রবার্ট। ট্রেডিং কলোনী হওয়ায় সেসময় দক্ষিণ আফ্রিকায় হাজার বিদেশী নাগরিক থাকতো। জার্মান, ডাচ। হিলবারো ছিল দক্ষীণ আফ্রিকার গ্রিনউইচ ভিলেজ। কসমোপলিটান, লিবারেল। সে এক মাথা খারাপ করা দৃশ্য। সেখানে গোপন গ্যালারী, নাইট ক্লাব আর বারে শিল্পী, পারফমাররা জনতার সামনে সরকারের সমালোচনা করতেন। সেখানকার গোপন বারগুলোতে সাদা কালোর তফাত ছিল না। কালোরা ক্ষমতাবানদের প্রতি ঘৃণা থেকে এখানে আসতো। আর সাদাদের মধ্যে তারাই আসতো, যারা এপার্টহেইড জিনিসটাকেই হাস্যকর মনে করতো। কারো ফ্ল্যাট, বেজমেন্টে সাদা আর কালোদের মধ্যে আড্ডা বসতো। এগুলো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আয়োজিত সভা ছিল না। মানুষ একে অন্যর সাথে দেখা করতো। গল্প করতো। মজা করতো।

আমার মাও এইসব ক্লাবে নিয়মিত যেতেন। তিনি প্রায়ই হিলবারো টাওয়ারে যেতেন, যা সেসময় দক্ষীণ আফ্রিকার অন্যতম উঁচু ভবন ছিল। সেই টাওয়ারের সবচেয়ে উঁচু ফ্লোরে রোটেটিং ডান্স ফ্লোরসমৃদ্ধ একটা নাইট ক্লাব ছিল। এটা ছিল খুব কঠিন একটা সময়। কিন্তু তবুও মানুষকে থামানো যেত না। প্রায়ই পুলিশরা সেখানে রেইড চালাত। এসিব ক্লাব, রেস্তরার মালিকদের ধরে নিয়ে যেত। আমার মা কাউকে বিশ্বাস করতে পারতেন না। তাকে ধরিয়ে দেবার লোকের অভাব ছিল না। সে সময় প্রতিবেশিরা একে অপরের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতো। মায়ের শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশিদের গার্লফ্রেন্ডরা, তাদের মধ্যে থাকা এই কালো ’ পতিতা’ কে চাইলেই ধরিয়ে দিতে পারতেন। আর কালোরাও সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতো। মায়ের শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশিরাও তাকে সরকারের গুপ্তচর ভাবতে পারতো। একজন কালো নারী যে কিনা পতিতা, গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে আছে। যে সাদাদের অবৈধ কাজের ব্যাপারে রিপোর্ট করতে পারে। সে সময় সবাইকে চর ভাবতো। পুলিশি রাষ্ট্র এভাবেই কাজ করে।

একাকী এই বিশাল শহরে থাকতে থাকতে মা একজনের সাথে কথা বলতেই নিরাপদ ভাবা শুরু করেন। ২০৬ নং ফ্ল্যাটে থাকা সেই লম্বা সুইস লোকটা। তার বয়স ৪৬। আর আমার মায়ের ২৪। লোকটা ছিল শান্ত আর গম্ভীর। আর মা ছিলেন মুক্ত আর স্বাধীন। তার প্রায়ই একসাথে ক্লাবে যেতেন। তাদের মধ্যে হয়ত কোথাও মিল ছিল। আমি জানি, আমার মা আর বাবার মধ্যে একটা নিগুড় বন্ধন আর ভালোবাসা ছিল। কিন্তু তা কতটুকু গভীর, তা আমি জানি না। এটা কোন সন্তানের জানার বিষয়ও নয়। কিন্তু আমি এতটুকু জানি একদিন তিনি বাবাকে একটা প্রস্তাব দিলেন।

“আমার একটা বাচ্চা লাগবে।”

“আমার বাচ্চার দরকার নেই।”

“আমি তোমাকে বাচ্চা নিতে বলছি না। আমি শুধু বলছি আমাকে নিতে সাহায্য করতে।”

“আমি একজন ক্যাথলিক। আমি এসব করতে পারবো না।” বাবা বললেন।

“কিন্তু তুমি জানো, আমি তোমাকে না জানিয়েও একটা বাচ্চা নিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি এমন করতে চাই না। তোমার সম্মতি দিয়ে আমাকে সম্মানিত কর। যাতে আমি শান্তিতে থাকতে পারি। তোমার জ্যণ কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তোমার ওকে নিয়ে ভাবতেহবে না। ওর খরচও দিতে হবে না। শুধু আমাকে একটা সন্তান দাও।”

আমার মায়ের প্রেক্ষাপট থেকে দেখলে, তার শুধুই একটা বাচ্চা দরকার ছিল। তিনি চাইতেন, কোনো পুরুষ তার জীবনে আসুক। বাবার দিক থেকে আমি জানি, তিনি অনেকবার এতে অস্মমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন তিনি সম্মতি দেন। কেন দিয়েছিলেন, তা আমি কখোনই জানবো না।

৯ মাস পর, ১৯৮৪ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী, আমার মা ডেলিভারির জন্য হিলবারো হাসপাতালের সি-সেকশনে এলেন। পরিবার থেকে বিছিন্ন, তার সন্তানের বাবা আইনত তার সাথে থাকতে পারবে না। একাকী হাসপ্তালে ডাক্তাররা তার পেট চিরে একটা আধা সাদা, আধা কাল সন্তান বের করলো, যা একসাথে অনেকগুলো আইনের পরিপন্থী। তাই, আমার জন্ম ছিল আজন্মের অপরাধ।

ডাক্তাররা যখন আমাকে বের করলো, তার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এ তো অনেক উজ্জ্বল বর্ণের বাচ্চা।” ডেলভারি রুমে তারা পিতৃত্ব দাবী করার জন্য কাউকে দেখতে পেলেন না।

“ওর বাবা কোথায়?” তারা মাকে জিজ্ঞেস করলো

“ওর বাবা সোয়াজিল্যান্ড থাকে।” সোয়াজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিমে একটা ছোট্ট ভূমিঘেরা দেশ। তার জানতো মা মিথ্যে বলছেন। কিন্তু তাদের একটা ব্যাখার দরকার ছিল আর তারা সেটা পেয়েওছিলেন। এপার্টহেইডে সরকার বার্থ সার্টিফিকেটে সব লিখে রাখতো। বর্ণ, গোত্র, জাতিয়তা। আমার মা মিথ্যে বললেন। তিনি জানালেন, আমার জন্ম নাগাওয়ানে হয়েছিল। দক্ষীন আফ্রিকায় বাস করা সোয়াজীদের আধা সার্বভৌম প্রদেশ। তাই আমার বার্থ সার্টিফিকেটে উল্লেখ নেই, আমি ঠোসা। যদিও আমি তাই ছিলাম। আবার সেখানে এটাও উল্লেখ নেই আমি সুইস। কারণ, আইনত তা অসম্ভব। এতে শুধু বলা আছে, আমি অন্য দেশের নাগরিক।

আমার বাবা অফিসিয়ালি, কখনোই আমার বাবা ছিলেন না। আর আমার মা কথামত, আমাকে তার সাথে জড়াতে চাইলেন না। কিন্তু আমার জন্মের পর, যখন মা তার সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমি কোথায়? বিস্ময়ের সাথে মা বললেন,” কিন্তু তুমি তো ওর ব্যাপারে জড়াতে চাও না।” তিনি আসলেও চাননি। কিন্তু যখন আমি জন্মালাম, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার অগোচরে তার একটা সন্তান বেড়ে উঠছে। এটা মেনে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব না। তাই, আমরা তিনজন মিলে একটা পরিবারের মত দাঁড় করালাম। মা একটা আলাদা ফ্ল্যাটে থাকতেন। সেখানেই আমি বড় হই। আমি আর মা প্রায়ই লুকিয়ে লুকিয়ে বাবার সাথে দেখা করতে যেতাম।

অধিকাংশ সন্তান যেখানে তাদের বাবা-মায়ের ভালোবাসার প্রমাণ, সেখানে আমি ছিলাম তাদের অপরাধের প্রমাণ। একমাত্র ঘরের ভিতরেই আমি বাবার কাছে থাকতে পারতাম। রাস্তায় বের হলেই আমরা আলাদা পথে চলে যেতাম। আমি আর মা প্রায়ই জোবার্ত পার্কে যেতাম। সেখানে সুন্দর বাগান চিড়িয়াখানা আর একটা বিশাল দাবাঘর ছিল। যার ঘুটি ছিল আকারে মানুষের সমান। মা একবার বলেছিল, যখন আমি খুব ছোট ছিলাম। তখন বাবা আমাদের সাথে পার্কে এসেছিল। তিনি একটা দুরত্ব রেখে আমাদের সাথে ঘুরছিলেন। কিন্তু আমি তাকে দেখেই বাবা! বাবা! বলে ডেকে উঠি। তার কাছে ছুটে যাই। সবাই তাকাচ্ছিল। তিনি বেশ ভয় পেয়ে যান আর দৌড়ে পালিয়ে যান। আমি তার পিছু নেই। আমি ভেবেছিলাম, এটা একটা খেলা।

 

আমি মায়ের সাথেও হাটতে পারতাম না। একজন কালো নারীর সাথে এত উজ্জ্বল বর্ণের শিশু স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের উদ্রেক করতো। ছোট থাকতে তিনি আমাকে ভাল করে মুড়িয়ে নিতেন। কিন্তু আমি যখন বড় হতে লাগলাম, তা একরকম অসম্ভব হয়ে দাড়াল। আমি ছিলাম এক প্রকান্ড শিশু। আমার বয়স যখন ৪ আমাকে তখন ৬ মনে হত। আমাকে লুকানোর কোনো রাস্তাই ছিল না।

কিন্তু মা ঠিকই আইনের ফাক-ফোকর খুজে পেয়েছিলেন। সাদা-কালো বাব-মায়ের কালার্ড বাচ্চা নেওয়া অবৈধ কিন্তু কালার্ড বাব-মায়ের কালার্দ বাচ্চা হওয়া অবৈধ না। তাই আমার মা আমাকে কালার্ড বাচ্চা হিসেবে নিয়ে ঘুরতেন। তিনি একটা আমাকে কালার্ড অধ্যুষিত এলাকায় রেখে আসতেন। সেখানে এক নারী আমাকে তার কাছে রাখতেন। প্রায়ই তিনি আমার মা সেজে আমাদের সাথে বের হতেন। তিনি আমাকে নিয়ে পার্কে নিয়ে ঘুরতেন। আমার কাছে ডজনখানেক ছবি আছে যেখানে, আমি আর সেই নারীর পেছনে মা দাঁড়িয়ে আছেন। মনে হত আমি আর মা ছবি তুলছি আর সেই নারী আমাদের ছবিতে ফটোবম্ব করছে। প্রায়ই তিনি ঝুকি নিয়ে আমার হত ধরে হাটতে বের হতেন। আর পুলিশ দেখলে হাত ছেড়ে দিতেন। যেন আমি তার পরিচিত কেউ না। নিজেকে তখন গাজার প্যাকেট মনে হত।

আমার যখন জন্ম হয়, মা তখন ৩ বছর হল বাবার বাড়ি যাননি। তাই তিনি আমাকে দেখাতে নানার বাড়ি নিয়ে গেলেন। আমি প্রায়ই সেখানে সময় কাটাতে যেতাম। সোয়েটোতে আমি এত সময় কাটাতাম যে প্রায় আমার নিজের বাড়ি মনে হত। অসংখ্য স্মৃতি সেখানে জমে আছে। সোয়েটোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল, যাতে এতে বিমানহামলা করা সহজ হয়। এতটাই দুরদর্শী ছিল এপার্টহেইডের আর্কিটেক্টরা। প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষের শহরটায় ঢোকার বেরিয়ে যাবার রাস্তা ছিল মাত্র একটি। যাতে আমরা বিদ্রোহ করলে সামরিক বাহিনী খুব সহজেই আমাদের আটকে দিয়ে বিদ্রোহ দমন করতে পারে। নিজেদের খাচায় বন্দি বনর মনে হত। বানররা খাচা ছেড়ে বের হতে নিলেই তাদের উপর বিমান হামলা করা হবে। বড় হয়ে আমি বুঝতে পারি আমার নানাবাড়ি একেবারে লক্ষ্যবস্তুর কেন্দ্রে।

শহরে আমার জন্য চলাচল করা খুব সুবিধার ছিল। সেখানে সাদা, কালো, কালার্ড সবাই রাস্তায় বের হত। কাজে যেত। কিন্তু সোয়েটো ছিল সম্পূর্ণ কালোদের শহর। এখানে সরকারের নজরদারীও বেশি। শহরের রাস্তায় খুব একটা পুলিশ থাকতো না। থাকলেও শার্ট-প্যান্ট গুজে দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু সোয়েটোতে তারা ছিল সামরিকায়িত। তারা সেখানে রায়ট গিয়ার পড়ে দল বেঁধে হাটতো, হুট করে উড়ে এসে হামলা করতো। তারা বিশাল চাকাওয়ালা এপিসিতে এসে গুলি চালাত। এগুলো ছিল প্রকান্ড আর এর বিভিন্ন জায়গায় ছিদ্র দিয়ে গুলি করা যেত। আমরা বলতাম’ হিপো’ । হিপ দেখলেই আমরা দৌড়ে পালিয়ে যেতাম। সোয়েটোতে পুলিশ ছিল দখলদার সেনা। সেখানে সারাক্ষণ কোথাও না কোথাও বিক্ষোভ লেগেই থাকতো আর পুলিশ সেখানে এসে আন্দোলন দমাত। নানার বাড়িতে খেলতে খেলতে আমি গুলি, চিৎকার, টিয়ার শেলের আওয়াজ শুনতে পেতাম।

 

আমার পুলিশ আর হিপ্পোর স্মৃতিগুলো, আমার ৫ কি ৬ বছর বয়সের। তার আগে আমি পুলিশ দেখিনি। কারণ, আমাকে পুলিশের নজর থেকে লুকিয়ে রাখা হত। আমি যখনই সোয়েটোতে যেতাম, আমাকে বাইরে যেতে বারণ করা হত। “ না, না, তুমি বাইরে যাবে না।” বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভেতরেই শুধু আমি খেলতে পারতাম। রাস্তা আমার জন্য নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বাকিসব বাচ্চাদের আমি বাইরে খেলতে দেখতাম। আমার মামতো ভাইবোন, প্রতিবেশি শিশুরা বাড়ির গেট খুলে বাইরে চলে যেত কিন্তু আমি যেতে পারতাম না। আমি এজন্য নানীর কাছে অনেক আবদার করতাম।

“প্লিজ! প্লিজ! আমিও যাব ওদের সাথে।”

“না! ওরা তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে।”

আমি অনেকদিন ভাবতাম, অন্য বাচ্চারা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে। কিন্তু পরে বুঝি উনি পুলিশদের কথা বলছেন। সেসময় বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হত। সঠিক বর্ণের বাচ্চারা তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় থাকবে। ভিন্ন বর্ণের শিশু পাওয়া গেলেই পুলিশ এসে তাদের বাব-মার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যেত। তারপর বাচ্চাটাকে এতিমখানায় নিয়ে যাওয়া হত। পাড়াশহরগুলোতে পুলিশের চরদের একটা নেটওয়ার্ক ছিল, এদের বলা হত‘ইমপিপি’ । যারা সন্দেহজনক সবকিছু পুলিশদের কাছে রিপোর্ট করতো। আর ছিল ব্ল্যাকজ্যাকরা। এরাও ছিল পুলিশের চর। আমার নানীর প্রতিবেশি ছিল একজন ব্ল্যাকজ্যাক। তারা আমাকে সেই লোকের দৃষ্টির আড়ালে রাখতেন।

আমার নানী এখনও এই গল্পটা করেন, আমার বয়স তখন মাত্র ৩ ছিল। ঘরে আটকে থাকতে থাকতে আমি বিরক্ত হয়ে বাগানের বেড়ার নিচে গর্ত খুড়ে বাইরে বের হয়ে পড়ি। সাথেই সবাই আতংকিত হয়ে পড়ে। পুরো একটা সার্চ পার্ট মিলে আমাকে খুজে বের করে। আমার তখন ধারণাই ছিল না কত বড় বিপদ হতে পারতো। আমার মা, নানী গ্রেফতার হতে পারতেন। আমাকে হয়ত কোনো এতিমখানায় দিয়ে আসা হত। তাই, আমি ঘরে আবদ্ধ ছিলাম। মাঝেমধ্যে পার্কে যেতাম। আমার ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো ছিল সব আমার মায়ের ছোট ফ্ল্যাটে নতুবা নানাবাড়িতে। আমার কোনো বন্ধু ছিল না। আমার মামাত ভাই-বোন ছাড়া আমি আর কোন বাচ্চাকেই চিনতাম না। তবে আমি একা থাকায় অভ্যস্ত ছিলাম। আমি বই পড়তাম। খেলনা দিয়ে খেলতাম। আমার কল্পনার আলাদা জগত ছিল। আমি সেই জগতে থাকতাম। আমি এখনো সেই জগতেই থাকি। আমি এখনও ঘন্টার পর ঘন্টা একাকী কাটিয়ে দিতে পারি। আমি নিজেই নিজেকে বিনোদিত করি। আমাকে মানূষের সাথে থাকতে মনে করিয়ে দিতে হয়।

 

নিশ্চিতভাবেই, এপার্টহেইডের সময় আমি দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র মিক্সড বাচ্চা ছিলাম না। বিশ্ব ভ্রমণ করতে গিয়ে এদের অনেকের সাথেই আমার দেখা হয়েছিল। আমাদের গল্পগুলো প্রায়ই এক। তাদের অধিকাংশের বাবা-মার হিলবারো অথবা কেপটাউনের কোন আন্ডারগ্রাউন্ড ক্লাবে দেখা হয়েছিল। তারা হয়ত কোন অবৈধ ফ্ল্যাটে থাকতো। কিন্তু আমার সাথে তাদের পার্থক্যটা হল, তাদের সবাইকেই গোপনে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদ্র অনেককেই লেসেথো কিংবা বতসোয়ানা দিয়ে বের করে ইংল্যাণ্ড, জার্মানী কিংবা সুইজারল্যাণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কারণ, এপার্টহেইডের সময় মিক্সড ফ্যামিলির কথা ভাবা রীতিমত পাগলামী।

 

এপার্টহেইডের পতনের পর, যখন ম্যাণ্ডেলা মুক্তি পেলেন, এদের অনেকেই ফিরে আসে। আমার বয়স যখন ১৭ তখন আমি এমন একজন কালার্ড শিশুর দেখা পাই। সে আমাকে তার গল্প বললো। আর আমি বললাম,” ওয়েট, হোয়াট? তুমি বলছো আমাদের পালিয়ে যাবার সুযোগ ছিল!” আপনি একবার ভাবুন, আপনাকে বিমান থেকে নিচে ফেলে দেয়া হল। আপনি পড়ে গেলেন আর আপনার সব হাড় ভেঙে গেল। তারপর আপনি জানলেন, প্যারাসুট নামে কিছু একটা ছিল। আমার মনের অবস্থা তখন এমন। আমি বুঝতে পারছিলাম না, আমরা কেন থেকে গেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কেন? কেন আমরা সুইজারল্যাণ্ড পালিয়ে গেলাম না?”

“কারণ, আমি সুইস না।” মায়ের কথার একগুয়েমি টের পাচ্ছিলাম। “এটা আমার দেশ। আমি কেন পালিয়ে যাব?”

আরও দেখেন

“বিশের দশকের হলিউড ছিল নান্দনিকতার আধার”: আলেক্সান... “আমি শুধুই নেব্রাস্কার একজন বাসিন্দা”: আলেক্সান্ডার পেইন   প্রশ্নঃ Nebraska আপনার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র যার চিত্রনাট্য আপনি লেখেননি।...
ট্রেভর নোয়ার স্মৃতিকথা | পর্ব ১...   মুখবন্ধঃ ইমোরালিটি অ্যাক্ট, ১৯২৭ (Immorality act, 1927) “ইউরোপীয় ও স্থানীয় অধিবাসী এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে অবৈধ যৌন সম্পর্ক নিষেধ...
আতাউর রহমান সিহাব
আতাউর রহমান সিহাব

উনি কুকুর ভালবাসেন। গান শুনেন আর জোছনা দেখে আবেগাপ্লুত হন।

error: