fbpx

না পড়েই কিভাবে বই নিয়া কথা বলবেন?

[ফরাসি লেখক/ চিন্তকদের একটা প্রবণতা ইন্ট্রেস্টিং। অন্যান্য দেশীয়রা এইটা করে না তা না, প্রবণতাটা তুলনায় ফরাসিদের বেশি। প্রবণতাটা হইতেছে আশ্চর্য, মজার, পপুলার, এমনকি কখনও সিলি বিষয় নিয়াও সিরিয়াস দার্শনিক আলাপে যাওয়া। ফলে আমরা রলা বার্থের ‘মিথলজি’, ‘এ লাভার’স ডিস্কোর্স’ বা আলা বাদিউ’র ‘ইন প্রেইজ অফ লাভ’সহ অজস্র ভালো বই আমরা পাইছি। পিয়েরে বাইয়ার’-এর ‘হাউ টু টক এবাউট দ্য বুকস ইউ হ্যাভন্ট রেড’ একই ধারার বই। পিয়েরে বাইয়ার একজন পেশাদার নন-রিডার। একজন তুখোড় পড়ুয়ার পক্ষেও একজীবনে দুনিয়ার ভালো বইগুলির একটা ভগ্নাংশও পড়া সম্ভব না অথচ বইপত্র নিয়া কথাবার্তাও বলা লাগে।

তাছাড়া তার মতে, বই পড়ারে সমাজ, যেভাবে ‘ভালো’ ‘মহৎ’ বলে ব্যাপক ওয়ারশিপ করে, আসলে এমনকি লিটারেরি এলিটরা বেশিরভাগ সময়ই বই পড়ে না। না পড়েই কথা বলে। অতএব নন-রিডার হওয়া জরুরি। কী দরকার জয়েস ও প্রুস্ত পড়ার, যদি না পড়েই বা অন্যের লেখা পড়েই এদের বিষয়ে কমেন্ট করতে পারেন? শেখা দরকার কিভাবে বই না পড়েই বই বিষয়ে কমেন্ট করা যায়।

হাউ টু টক এবাউট দ্য বুকস ইউ হ্যাভন্ট রেড‘ বইটা বইপাঠজনিত যে কালচারাল ক্যাপিটাল, এলিটিয়ানার টুলস তা নিয়াও তদন্ত, -জরুরি আলাপ।

উমবের্তো একো নিজে আগ্রহী হয়ে বইটার রিভিউ করছেন ‘প্যারিস রিভিউ‘তে। মাদারটোস্টের পাঠকদের জন্যে বইয়ের কিছু চুম্বক অংশের অনুবাদ ছাপা হইলো। — মাদারটোস্ট]

(এইখানে পাঠক ম্যুজিল এর একটা চরিত্রের মাধ্যমে দেখবে,বই সম্পর্কে একটা সামগ্রিক ধারণা রাখার তুলনায় নির্দিষ্ট কোন বই পড়া সময়ের অপচয় মাত্র)

কোনো বই না-পড়ারও অনেক উপায় আছে, এর মধ্যে সবচে র‍্যাডিকাল উপায়টা হলো বইটা আদৌ না খোলা। এরকম না খুলে বই পড়ার মত সংযম একজন পাঠকের জন্য, তা সে যতটা ডেডিকেটেডই হোক না কেন বস্তুত সব প্রকাশিত লেখার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমাদের অবশ্যই এটা ভুলে গেলে চলবে না,দুনিয়ায় যত বই আছে খুব দক্ষ পাঠকও  তার একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভগ্নাংশও পড়ে শেষ করতে পারে না। ফলে,যদি না সে নিজেকে সব কথোপকথন আর লেখা থেকে বিরত রাখে,সে সবসময় যে সব বই পড়ে নাই, সে সব বই নিয়েও তার ভাবনা প্রকাশ করতে বাধ্য হবে।

যদি এই আচরণ একটু চরমে নেই,আমরা একজন শুদ্ধ অপাঠকের কেইস পাই,যে কখনও একটা বই খুলেও দেখে নাই তা সত্ত্বেও সে বইগুলো সম্পর্কে জানে এবং নিঃসংকোচে তাদের নিয়ে কথা বলতে পারে। এরকম একটা কেইস দেখা যায় ম্যুজিলের দ্য ম্যান উইদআউট কোয়ালিটিস উপন্যাসের একটা লাইব্রেরিয়ান চরিত্রের মধ্যে। উপন্যাসে এটা একটা গৌণ চরিত্র কিন্তু আমাদের আলোচ্য ব্যাপারে তার র‍্যাডিকাল অবস্থান আর এটারে ডিফেন্ড করার সাহস থাকাতে চরিত্রটা আমাদের আর্গুমেন্ট তৈরীতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

ম্যুজিলের উপন্যাস গত শতকের শুরুর দিকে কাকানিয়া নামক একটা দেশকে  (অস্ট্রো-হাংগেরিয়ান সাম্রাজ্যের প্যারোডি) নিয়ে লেখা। সম্রাটের রাজত্বের আসন্ন বার্ষিকী-অনুষ্ঠানের ব্যয়বহুল উদযাপনের জন্যে ‘প্যারালাল একশান’ নামে একটা স্বদেশপ্রেমী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। এই উদযাপনের উদ্দেশ্য বহির্বিশ্বের কাছে মুক্তির একটা নমুনা হয়ে ওঠা। উপন্যাসে ম্যুজিল এই প্যারালাল একশানের নেতাদের একদল হাস্যকর পুতুল এর মত করে দেখিয়েছেন যারা একটা ‘মুক্তির আইডিয়া’ এর খোজে আছে। যে আইডিয়া তারা শেষ পর্যন্ত খুজে বেড়ায় যদিও সবচে অস্পষ্টভাবেও বলা যায় – সত্য বলতে আইডিয়াটা কেমন হতে পারে তাদের না আছে  তার নামমাত্র আভাস, না আছে দেশের সীমানার বাইরে এই আইডিয়া কিভাবে মুক্তির কার্যক্রম চালাবে তার ধারণা।

আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে অন্যতম পরিহাস্যকর হচ্ছে জেনারেল স্টাম ( জার্মান ভাষায় এর মানে –বোবা)। স্টাম অন্য কারো আগে ‘মুক্তির আইডিয়া’ খুজে বের করে সেটাকে তার ভালোবাসার নারী ডিওটিমা (যে কিনা প্যারালাল একশানে সুপরিচিত) কে উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। “তুমি মনে করতে পারছো ,তাই না?” স্টাম বলে, “আমি মনস্থির করেছিলাম ডিওটিমা যে মহান মুক্তির আইডিয়াটা চায়,সেটা খুজে বের করে তার পায়ের সামনে নিবেদন করবো । কিন্তু এখন দেখছি সেরকম মহৎ আইডিয়া ত অনেক আছে, কিন্তু তাদের মধ্যে একটাই মহত্তোম এবং একমাত্র যৌক্তিক আইডিয়া হবে, তাই না ? – তাহলে এখন ত শুধু আইডিয়াগুলোকে অর্ডার করার কাজ বাকি মাত্র!”

জেনারেল স্টাম, যার আইডিয়া নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে, একটুও না ঘাবড়ে, নতুন আইডিয়া তৈরীর ধান্ধায় রাজ-পাঠাগারে-নতুন নতুন চিন্তার ফোয়ারায়- যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, “যাতে সে প্রতিপক্ষের সম্পদের ব্যাপারে জানতে পারে এবং ‘মুক্তির আইডিয়া’ সবচে দক্ষতার সাথে খুজে বের করতে পারে”।

বই এর ব্যাপারে অল্প ধারণা থাকা জেনারেল লাইব্রেরীতে গিয়ে বেশ অস্বস্তির মধ্যেই পড়লো। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসাবে সে সবসময়ই কর্তৃত্বে থেকে অভ্যস্ত, কিন্তু এখানে এসে সে এমন এক ধরণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় যা না  দেয় কোন ল্যান্ডমার্ক , না ধরে রাখার মত কিছু : “আমরা সবাই মার্চ করে সেই  বই এর প্রকান্ড গুদামটিতে গেলাম আর এটা বলতে দ্বিধা নেই যে আমি ঠিক অভিভূত হই নি;সেই বই এর সারিগুলোকে কুচকাওয়াজে সারিবদ্ধ সেনাদের তুলনায় খুব একটা জঘন্য কিছু লাগে নি আমার কাছে । যদিও কিছুক্ষন পর আমি মাথায় কিছু চিন্তা করতে থাকলাম  আর একটা অপ্রত্যাশিত আইডিয়া পেয়ে গেলাম।ভেবে দেখেন, আমি ভাবছিলাম আমি যদি রোজ একটা করে বই পড়ি, সেটা স্বাভাবিকভাবেই বেশ শ্রান্তিকর একটা ব্যাপার হবে,যদিও কখনও কখনও আমি শেষ অবধি পড়তে পারবো, তার পর আমি যদি কিছু বাদও দেই তবুও আমি বুদ্ধিজীবীমহলে একটা অবস্থান করে নিতে পারবো। কিন্তু আমরা যখন আপাত অসীম লাইব্রেরীটাতে হাটছি আর হাটছি আর তখন জিজ্ঞেস করলাম-এই মাথা খারাপ করা লাইব্রেরীটাতে কতগুলো বই আছে ?  ভাবতে পারেন লাইব্রেরিয়ান ব্যাটা আমাকে কি জবাব দিলো ? -পয়ত্রিশ লক্ষ বই নাকি আছে এতে ! আমরা তখন সাত লক্ষ বই এর সারি পার করেছি বা এমন কিছু, কিন্তু মনে মনে আমি এই সংখ্যাগুলো নিয়ে ভাবতে লাগলাম। বিস্তারিত বর্ণনায় না যাই, আমি পরে আমার অফিসে কাগজে কলমে হিসাব করে দেখলাম আমার প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে  দশ হাজার বছর লাগবে”।

এই অসীম সংখ্যক বই এর মুখোমুখি হওয়া  ‘একেবারেই  না পড়ার’ ব্যাপারে এক রকম উৎসাহ হিসাবে কাজ করে।এমন বিশাল সংখ্যক বই  সামনে রেখে যেগুলোর অধিকাংশই  আমাদের অজানাই থেকে যাবে , আমরা কিভাবে ‘আজীবন বই পড়ার কাজটাও রীতিমত বৃথা’- এই উপলব্ধি থেকে রেহাই পেতে পারি ?

বই পড়া প্রথমত এবং প্রধানত না-পড়া। এমনকি আজীবন বই পড়া প্যাশনেট পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও, একটা বই তোলা এবং খোলার কাজটার সাথে সাথে একটা উল্টো কাজও হয় – দুনিয়ার আর সব বই না খুলে দেখার অনিচ্ছাকৃত কাজ।

যদি দ্য ম্যান উইদআউট কোয়ালিটিস কালচালার লিটারেসি ( ই, ডি, হারশ এর প্রবর্তিত শব্দ –কোন কালচারে অনায়াসে অংশগ্রহন করতে পারার ক্ষমতা) অসীমকে ছেদ করার সমস্যাকে উপস্থাপন করে থাকে, এটা একটা সম্ভাব্য সমাধানও দিয়ে থাকে,যে সমাধান লাইব্রেরিয়ান জেনারেল স্টামকে দিয়েছিল। লাইব্রেরিয়ান লাখ লাখ ভলিউম বই এর লাইব্রেরীতে এমনকি দুনিয়ার সব বই এর মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার একটা উপায় খুজে পেয়েছে। তার কৌশলটা অসাধারণ কিন্তু সরল: “আমি যখন তাকে যেতে দিচ্ছিলাম না,তখন হঠাৎ করে তিনি  ঢিলেঢালা টলমলে প্যান্ট সহ নিজেকে টেনে বের করে আস্তে খুব সহানুভুতিভরা কন্ঠে নিজের সবচেয়ে গোপন কৌশলটা দিয়ে দেয়ার মত করে বলল: ‘জেনারেল, তুমি যদি জানতে চাও কিভাবে আমি লাইব্রেরীর প্রতিটা বই সম্পর্কে জানি,আমি তোমাকে বলতে পারি! কারণ আমি একটা বইও কখনও পড়ি নাই”। জেনারেল এমন লাইব্রেরিয়ানকে-যে কিনা সচেতনভাবে বই পড়া এড়িয়ে যায় কোন সাংস্কৃতিক চাহিদার কারণে না বরং তার বইগুলো সম্পর্কে ভালো মত জানতে-দেখে তাজ্জেব হয়ে যান।“ আপনাকে বলি, আমার জন্যে এটা একটু বেশি বেশিই হয়ে যাচ্ছিল! কিন্তু আমার তাজ্জব বনে যাওয়া চেহারা দেখে সে নিজের কথাকে ব্যাখ্যা করলো। ‘একজন ভালো লাইব্রেরিয়ান এর গোপন কৌশল হলো সে তার বই গুলোর নাম আর সূচিপত্রের বাইরে কিছু পড়ে না।যে নিজেকে ছেড়ে দেয় এবং কোন বই  পড়া শুরু করে সে-ই হয়ে যায় একজন দিশাহারা  লাইব্রেরিয়ান, সে নিশ্চিতভাবে তাবত বই ব্যাপারে তার পারসপেক্টিভ হারিয়ে ফেলবে’।

‘আমি শ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করতে বললাম, ‘তুমি কখনও একটা বইও পড়ো নাই?’

‘বই এর তালিকা ছাড়া,কখনও না’।

‘কিন্তু তোমার না একটা পি,এইচ,ডি ডিগ্রী আছে?’

‘অবশ্যই আমার পি,এইচ,ডি ডিগ্রী আছে। ইউনিভার্সিটিতে লাইব্রেরি সায়েন্স বিভাগের বিশেষ লেকচারার হিসাবে ছাত্রদের পড়াই। লাইব্রেরী সায়েন্স একটা ডিগ্রীমুখী বিশেষ ক্ষেত্র,তুমি হয়ত জানো’ তিনি ব্যাখ্যা করলেন।‘বই সাজানো আর সংরক্ষণ, নামের তালিকা করা, ভুল ছাপানো ঠিক করা, নাম আর পৃষ্ঠায় ভুল তথ্য এসবের সংশোধনেরকতগুলা সিস্টেম আছে ধারণা করতে পারো, জেনারেল ?”

ম্যুজিলের লাইব্রেরিয়ান তাই নিজের তত্ত্বাবধায়নে থাকা বইগুলোকে পড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখে,কিন্তু এর মানে এই না যে সে বইগুলোর ব্যাপারে উন্নাসিক বা বিরুপভাব  ধারণ করে, যেমনটা কেউ ভাবতে পারে।বরং বই (সব বই) এর প্রতি তার ভালোবাসা এবং একটা ভয় –যে কোন একটা বই এ আগ্রহ দেখা দিলে বাকিসব বইকে অবহেলা করা হবে তাকে বিচক্ষনতার সাথে সব বই এর পেরিফেরিতে থাকতে অনুপ্রাণিত করে।

আমার কাছে  মনে হয় পারস্পেক্টিভ মেন্টেন করার ধারণার উপর ম্যুজিল এর লাইব্রেরিয়ানের বিজ্ঞতা নির্ভর করে। লাইব্রেরীর ব্যাপারে তিনি যা বলেন সেটা আসলে ইন জেনারেল কালচারাল লিটারেচার এর ব্যাপারে সত্য। যে একটা বই এ নাক গুজছে,সে প্রকৃত চর্চা এমন কি বইটা পড়াও বর্জন করছে।কারণ এত সংখ্যক বই এর ভীড়ে ,সামগ্রিক দর্শন আর আলাদা আলাদা বই এর মধ্যে একটা চয়েজের ব্যাপার আছে।আর সব পড়াই ত পুরো পড়ার বিষয়টাতেই ওস্তাদ হবার মত একটা কঠিন আর টাইম কঞ্জিউমিং ব্যাপারে শক্তির অপচয় মাত্র।

লাইব্রেরিয়ানের যুক্তির এতটা কেন্দ্রে অবস্থান করা পারসপেক্টিভের ধারণাটা ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও আমাদের জন্যে উল্লেখযোগ্য তাৎপর্য রাখে।এটা একই ধারণার ‘অন্তর্নিহিত উপলব্ধি’ যা কিছু সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষদের ঘোরতরভাবে অসাংস্কৃতিক তকমা পাওয়ার ঘটনা থেকে অক্ষতভাবে পালিয়ে বাঁচতে শেখায়।

সংস্কৃতি চর্চা করা মানুষ মাত্রই জানেন (আর,দূর্ভাগ্যবশত অচর্চিত মানুষেরা জানেন না), সংস্কৃতি সর্বোপরি একটা অরিয়েন্টেশান এর ব্যাপার।চর্চিত মানুষ হওয়া মানে কোন বিশেষ বই পড়ে আসা না,বরং নিজের ধ্যান-ধারণাগুলোকে বইগুলোতে একটা সিস্টেম হিসাবে খুজে বের করা। এটা করতে চাইলে বইগুলো যে একটা সিস্টেম ফর্ম করে তা এবং  সিস্টেমটার প্রতিটা উপাদানের অন্য উপাদানের সাপেক্ষে অবস্থান আপনার জানা থাকা দরকার । বই এর ভেতরটা এর বাইরের অংশ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ অথবা বলা যায় বই এর ভেতরটাই আসলে বই এর বাইরের অংশ(নেহাত অপ্রয়োজনীয়), যেহেতু একটা বই এর বিবেচ্য ব্যাপার হল এটা ঠিক কোন বইগুলোর পাশে থাকে তা।

একজন চর্চিত মানুষ যদি একটা প্রদত্ত বই না পড়ে থাকে এবং এর বিষয়বস্তুর ব্যাপারে নির্দিষ্ট ধারণাও না রাখে এটা কম গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার হয়ে যায় যদি সে বইটার অবস্থান অন্য কথায় এটা অন্য বইগুলোর সাপেক্ষে কোথায় অবস্থান করে সম্পর্কে ধারণা রাখে। বই এর বিষয়বস্তু এবং অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাই সংস্কৃতির ব্যাপারে নির্ভীক মানুষদের কোন সমস্যা ছাড়াই যে কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরুপ বলতে পারি, আমি কখনও জয়েস এর ইউলিসিস ‘পড়ি’ নি,মনে হয় না কখনও পড়া হবে। এই বই এর ‘বিষয়বস্তু’ আমার কাছে মূলত অজানা , এটার ‘বিষয়বস্তু’,অবস্থান নয় কিন্তু। যদিও একটা বই এর বিষয়বস্তু অনেকাংশেই এর অবস্থান। এর মানে কোন কথোপকথনে ইউলিসিস প্রসংগ আসার ব্যাপারে আমি বেশ  কমফোর্টেবল, কারণ অন্য বই এর সাপেক্ষে এই বইটির অবস্থান আমার জানা।যেমন, আমি জানি এটা অডিসিকে নতুন করে উপস্থাপন করেছে, এটার বর্ণনা ‘স্ট্রিম অফ কংশাসনেস’ এর ফর্মে দেয়া আর বর্ণিত ঘটনাটা ডাবলিন শহরে একদিনের ব্যাপ্তিতে ঘটে। এবং এর ফলে আমি আমাকে একেবারে উদ্বেগহীনভাবে জয়েস এর নাম নিতে দেখি।


লেখক পরিচিতি পিয়েরে বাইয়ার। জন্মেছেন ১৯৫৪ সালে। জাতে ফরাসি। পেশায়- লেখক, সাহিত্যের অধ্যাপক, মনোবিশ্লেষক।

ফেইসবুক কমেন্ট
No Comments Yet

Comments are closed

error: