fbpx

বাংলাদেশে হিপ হপ: হতে-থেকে-চেয়ে

নগর এক্সপান্ড করতে থাকলে লো-ইনকাম পিপল মূল নগরীর আশেপাশে ভিড় জমাতে শুরু করে। ৭০ এর দশকে নিউইয়র্কের ব্রংক্স শুধুমাত্র গরীব লোকেদের বসবাসের জায়গা ছিল না বরং এখানে লাতিন থেকে আসা কালো ইমিগ্রেন্টরাও বসবাস করতো এবং এখনো করে।

তো ৭০ এর দশকের শুরুর দিকে ব্রংক্সের অবস্থা মোটামুটি ভয়াবহ ছিল। ব্যাপক হারে অর্থনীতির নিম্নগামিতা, সেক্স, রেস, ভায়োলেন্স এবং ড্রাগস। এসবের মিশেলে ব্রংক্স টালমাটাল এবং সিভিল রাইটস মুভমেন্টও(১৯৬৮) শেষ হয়েছে কিছুদিন আগেই তখন এখানে দুইটি ধারা একসাথে বিকাশ লাভ করে।

একটি হচ্ছে কালো যুবকদের রাস্তার পাশে বসে আফ্রিকান সনাতন স্টাইলে গান গাওয়া এবং আরেকদল যুবকের স্ট্রিট গ্যাঙ গড়ে তোলা।প্রথমটি পরবর্তীতে হিপ হপ কালচারের অংশ হবে এবং দ্বিতীয়টি থেকে হিপ হপ মিউজিকের একটি জনরা গড়ে উঠবে। তারও পরবর্তী ভবিষ্যতে এই হিপ হপে শাদারা যোগ দিবে এবং পৃথিবীর অন্যতম পপুলার সাবকালচার হয়ে উঠবে এই হিপ হপ এবং এর ধারাবাহিকতায় ব্রাউন পিপলদের মধ্যেও এর আমদানি দেখা যাবে। তখন আমরা বাংলাদেশে হিপ হপ ও এর প্রভাব নিয়ে কথা বলতে পারব।

রক মিউজিক ইমার্জ করে ৫০ এর দশকে। রক এন্ড রোল থেকে সাঙ্গীতিক ঘরাণায় ইম্প্রোভাইজড ছিল মূলত। এছাড়া এতে জ্যাজ, ব্লুজ,কান্ট্রি এবং আফ্রো-আম্রিকান মিউজিকের বেশ প্রভাব ছিল।পরবর্তীতে এই মিউজিক ব্যাপকভাবে এক্সপান্ড করতে থাকলে অনেকগুলা সাব-জনরার সৃষ্টি হয় ও প্রতিটি জনরার আলাদা আলাদা মিউজিক্যাল, ফিলোসফিক্যাল ভ্যালু অ্যাড হয়।

এ তো গেল সাঙ্গীতিক দিক। এছাড়া এ মিউজিকের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পলিটিক্যাল। আফ্রো-আম্রিকানরা ছোটলোকের সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে আসে এবং অ্যান্টি সিস্টেম/অর্গানাইজেশন মুভমেন্ট এ মিউজিকের অনন্য দিক ছিল। উদাহরণস্বরূপ জিন্স প্যান্টের নাম নেয়া যেতে পারে, যা ছিল লেবারদের পোষাক। এ মিউজিক ৮০’র দশকের শেষের দিকে এসে যদিও আগের আবেদন (পলিটিক্যাল/মিউজিক্যাল) ধরে রাখতে পারে নাই, ইমার্জ করে পোস্ট-রক এবং ইন্ডি রক ঘরানা। যাই হোক, Jimmy Hendrix ছিল প্রথমদিককার রকারদের মধ্যে অন্যতম।

Sean Paul নামে একজন জ্যামাইকান ভদ্রলোক আছে। তার Stage One (2000) অ্যালবামের “Deport Them” গানটা শুনলে যে কেউই বুঝতে পারবে এই ভদ্রলোক একবিংশ শতাব্দীর হিপ-হপ মিউজিকে একজন অবতার।

 

বাংলা হিপ হপ মিউজিক আগের শতকের পাছার দিকে কিছুটা চেষ্টা নেয়া হইছিল কিন্তু ছোটলোকরা সিডি কিনা বা পাইরেসি কইরা সেগুলা শোনে নাই। শুন্য’র দশকের মাঝের দিকে কিছু বাংলাদেশি আম্রিকান হিপহপ কালচার বিদেশ বিভুয়ে থেকে দেইখা আইসা গেটাপ চেইঞ্জ কইরা মেটাল চেইন গলায় ঢিলাঢালা পোষাকে গাঞ্জার স্টিক জ্বালাইয়া খুব হিপহপ শুরু করে। মুঘল আমলে যেমন দিল্লী দেইখা আইসা এইখানে ঐ টাইপের বিল্ডিং বানানোর চেষ্টা চলত। যাক, ছোটলোক তাদের কাজ নেয় নাই তো কি হইছে যারা নেওয়ার মানে ‘ক্ল্যাসি’রা ঠিকই নিছে, আর বিডিতে এই টাইপের গান ছোটলোকদের জন্য নয়।

পোষাক-আশাকের কথা আসাতে হিপ-হপ গেটাপ নিয়া কিছু কথা বলা যাক। ১৯৭০ এর দশকে লস অ্যাঞ্জেলেসের জেলে শেরিফরা বেল্ট এবং জুতার ফিতা খুইলা নিত কারণ এগুলা দিয়া আগে অনেকেই আত্নহত্যা করতো। তাই দেখা যায়, কয়েদিদের প্যান্ট খুইলা যাওয়ার অবস্থা হইত ও জুতার অনেকটুকু অংশ প্যান্টে ঢাইকা থাকতো। জুতার ফিতা না থাকাতে জুতাও টাইটফিট রাখা যাইতো না। আর শার্ট যা দিত তা মাশাল্লা ফ্রি-সাইজ ঢিলাঢালা হইয়া থাকতো। এরা জেল থেকে বের হওয়ার পর হিপ-হপ কালচারে এই বিষয়গুলা ইনক্লুড করে।

 

স্টোয়িক ব্লিসের ‘আবার জিগায়’ গানটার প্রসঙ্গে ফিরা আসি। এই গান ডাউনটাউন পর্যন্ত হিট হয় বিডিতে। গানটা কপিক্যাট হইলেও লিরিক্স খেয়াল করলে দেখা যাবে বিডি পার্সপেক্টিভ সার্ভ করে এমন কিছু নাগরিক এলিমেন্ট এই গানে আছে। তাই মধ্যবিত্ত পর্যন্ত এই গান চইলা আসে। বিডিতে এরচে’ হিট হওয়া হিপহপ গান মনে হয় একটাও নাই। তবে কথা হচ্ছে, বিডির হিপহপের ক্ষেত্রে, ছোটলোক তুমি হিপহপের নও।

পরে আমি আরো একটু আশ্চর্য হইয়া খেয়াল করলাম এদেশে গ্যাংস্টা র‍্যাপ পর্যন্ত হইয়া গেছে। মানে ঐ স্টাইলের গান তৈরি করা হইছে। লিরিক্সে গ্যাংস্টা কালচারের ম্যালা কতা হান্দাইয়া দিছে আর কত না বাহারি সাউন্ড ইফেক্ট। সেটা করছে ডেশি এমসি। ফলো করাটা আসলে হিপ-হপের ক্ষেত্রে কেমন তা একটু খেয়াল করি। আগের ঢিলাঢালা পোষাক তো আছেই,সাথে হাই নেক জুতা, র‍্যাপাররা আলাদা আইডেন্টিটির জন্য মেটাল চেইন ইউজ করা শুরু করে (সাধারণত গোল্ড বা প্লাটিনামের), মাথায় ক্যাপ, আর অ্যাডিশনাল এলিমেন্ট হিসাবে গাঞ্জা। তাদের ধারণা, গাঞ্জা ব্রেইনে ক্রিয়েটিভ শক প্রোভাইড করে আর গাঞ্জার স্টিক হাতে হাতে ঘুরলে তা মহব্বত ক্রিয়েশনের একটা ব্যাপার আছে। অনেকে ইয়ার পিয়ার্চ করে। আম্রিকান দুই র‍্যাপার Juvenile ও Lil Wayne এর ‘’Bling Bling”(Baby Gangsta) গানটা বের করার পর এই হিপ-হপ জুয়েলারির নাম হয়ে যায় Bling অথবা Ice. তো বাংলাদেশে এই ফ্যাশন,জুয়েলারি আর Sean Paul এর গানটার টিউন ইমপোর্ট করা হয়।

 

গান থেকে এবার একটু হিপহপ আর গ্যাংস্টা কালচারে চলে যাই। বঙ্গমুল্লুকে আদনান নামে এক কিশোর খুন হয় ২/১ বছর আগে। আর্বান গ্যাংস্টা কালচার গইড়া তুলে রাজধানী শহর ঢাকার উত্তরায়। ২০১৮ তে চিটাং-এ খুন হইল তাসফিয়া নামের মেয়ে একটা। এগুলার কালচারাল ভ্যালু আমার কাছে অনেক।

শিল্প,সাহিত্য,সঙ্গীত,মুভি,লাইফ,স্টাইল সবকিছুতেই কপিক্যাটে আজ আমরা এত বড় হচ্ছি,মাফিয়ারাও ক্রিয়েট হচ্ছে সামনে ড্রাগলর্ড পেয়ে গেলেই ষোলকলা পূর্ণ! এই দুইটা খুনের ঘটনার সাথে এডওয়ার্ড ইয়াং এর ‘’A Brighter Summer Day” এর অনেক মিল আছে। ইয়াং অবশ্য এরকম দুইটা খুনের ঘটনা থেকেই, মুভির স্ক্রিপ্টিং’র আইডিয়া পান।  দেখা যাক এই ভদ্রলোক প্রায় যুগ দুই আগে কি বলতেছেন তার আরেক মুভি কনফুসিয়ান কনফিউশন বানানোর পরঃ

The situation in all of Asia is terrible now. It’s not an economic problem, it’s not a financial problem, it’s not a political problem, it’s a serious cultural problem.

 

 

গ্যাংস্টা কালচার লাতিন আম্রিকায় কমন একটা কালচার। এখানে প্রচুর ড্রাগ ডিল হয়, সেক্সুয়ালিটি,ভায়োলেন্স,হুটহাট শ্যুটার আইসা খুন কইরা  যাওয়া, অ্যাবিউজ ইত্যাসি সেখানকার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সেগুলার পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে উঠে স্ট্রিট গ্যাং। যার প্রভাবমুক্ত ছিল না খোদ আম্রিকা নিজেও। নিউইয়র্কের সাউথ ব্রংক্সে লাতিন-আম্রেরিকানরা সেইম কালচার গড়ে তোলে,পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠে স্ট্রিট গ্যাং। আম্রিকায় কালোদের যেভাবে ট্রিট করা হইত, সেখান থেকে ব্রংক্সের একটা শ্রেনি তাদের আদি স্টাইলে গান গাইত প্রতিবাদ জানাইতো, রাইটস চাইতো। এভাবেই ইভলভ হয় হিপহপ কালচার আর এর মাঝখানে একটা সাব ক্যাটাগরি হচ্ছে গ্যাংস্টা র‍্যাপ। আম্রিকায় তথা তামাম দুনিয়ায় এই হিপহপ ব্যাপক পপুলারিটি পায়। ইন ফ্যাক্ট, পপুলারিটির দিক থেকে হিপহপ পৃথিবীর সবচে’ বড় সাবকালচার। হিপহপও আর হিপহপ থাকেনি। ১৯৯৯ এ আইসা যখন Bling/Ice যখন প্রধান আলোচ্য বিষয় হইয়া ওঠে তখন কি করা উচিত সেটা বিবেচনা না কইরা যেন তার আগের তিনটা দশক আমরা ভুইলা না যাই।  ওল্ড স্কুল হিপহপের সাথে নিউস্কুল হিপহপের অনেক ফারাক। তাই বইলা বঙ্গমুল্লুকের মত অবস্থা না। কেননা, রক মুভমেন্ট ৫০জ-এ ইভলভ হওয়ার পরও আমরা ১৯৯০ সালে আইসা খোদ আম্রিকান মেটাল ব্যান্ড Megadeath থেকে ইসরায়েল ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড নিয়া “Holy Wars….The Punishment Due” মত গান পাই। আমাদের লোকাল কনসার্ন নিয়াও  এরকম খুঁইজা পাওয়া মুশকিল! গ্লোবাল তো বহত দূর কি বাত!

হিপহপ আর র‍্যাপ দুইটাই যেন বঙ্গদেশে আইসা র‍্যাপ হইয়া গেছে বা কারো কারো কাছে র‍্যাপই হিপহপ হইয়া গেছে। ওল্ড স্কুল এবং এই হিপ হপ মুভমেন্টের মায়েস্ত্রো Afrika Bambaataa এর একটি কোট আগে দেখা যাক, “Hip-hop music includes more than just rap”. আসলে আফ্রিকান-আম্রিকান পার্সপেক্টিভে,এই কালচারের মাধ্যমে ডিসকোর্সগুলা পলিটিক্যালি ধারণ করা। তারমানে এই না জবররজং পলিটিক্যাল বক্তব্য দিয়া ভরাইয়া রাখতে হবে র‍্যাপের লিরিক্স। ইন্সট্রুমেন্টাল র‍্যাপও অনেক আছে এই কালচারে যা হিপ-হপাররা চমৎকারভাবে প্রেজেন্ট করছেন। হিপ-হপের সাবকালচারে র‍্যাপিং, ডিজেয়িং, বি-বয়িং, গ্র‍্যাফিটি পেইন্টিংস এই চারটি উপাদান আছে। এগুলা ১৯৭০ এর দশকেই দুনিয়ামে প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। তখন আমাদের এই বঙ্গমিউজিকে ‘সোলস’ এর আবির্ভাব ঘটে য়্যুরোপিয়ান জ্যাজ আর ব্লুজ মিউজিক থেকে ব্যাপক ইন্সপায়ার্ড হয়ে! আমাদের দেশে যখন হিপ-হপ আসবে তখন নিউ-স্কুল হিপ-হপার LL Cool J (Ladies Love Cool James) নামটা অনেক ভার বহন করবে। কারণ,যা কিছুই আমাদের কালচারে আসছে তা পিরিতের মধ্য দিয়াই কনভার্টেড। হুমায়ুন আহমেদের,”জগতের সারকথাই পিরিতি” টাইপের। আগের ক্যারেক্টারের নাম যেমন ওল্ড স্কুল মায়েস্ত্রো Dj Kool Herc থেকে নেয়া তেমনি নিউ-স্কুল হিপ-হপটাও ছিল ওল্ড স্কুলের অনুকরণ। যদিও ওল্ড স্কুল মিউজিক ছিল অনেক বেশি লিরিক্যাল, মিউজিক প্যাটার্ণ রক এন্ড রোল এবং জ্যাজ থেকে ইন্সপায়ার্ড। নিউ-স্কুলে মিউজিক প্যাটার্ণ চেইঞ্জ হয়ে যায় আর বাকি সব স্টাইল ওল্ড স্কুল অনুকরণে। যেমনটা আমরা পাই সাইকিডেলিক রক আর নিও-সাইকিডেলিয়ার মধ্যেও। নিও-সাইকিডেলিয়া জাস্ট সাইকিডেলিক মিউজিক প্যাটার্ণ আর স্টাইল থেকে ইম্পোভাইজড।

বঙ্গমুলুকে ১৯৬৩ সালে জিঙ্গা দলগোষ্ঠী প্রথম অর্কেস্ট্রা মিউজিক ব্যান্ড গইড়া তোলে। ৭০জ থেকে এখানে ব্যান্ড গইড়া উঠতে থাকে, লেইট ৮০জ পর্যন্ত অর্কেস্ট্রা ব্যান্ড থেকে জ্যাজ-ব্লুজ একটা সার্টেইন ক্লাসের জন্যই ছিল এবং এই মিউজিক ছিল পিরিতের উষ্ণ চাদরে মোড়ানো।

এই ধারাবাহিকতায় ৯০জ ছিল বাংলা রকমিউজিকের বুম পিরিয়ড। এই পিরিয়ডে হাইলি প্রেইজড ব্যান্ডগুলার মধ্যে ডিফ্রেনট টাচ, ওয়ারফেইজ, রকস্টারটা, এল. আর. বি. (Love Runs Blind), আর্ক, মাইলস এবং নিউ ফর্মেশনের সোলস। ব্যান্ড হিসাবে ৯০-এর ‘সাবকনশাস’ ডিফ্রেন্ট আর মিউজিক্যালি মাইলস।

এই রক ব্যান্ডগুলা মিউজিক্যালি চমৎকারভাবে বিশেষত য়্যুরোপিয়ান আর কিছু আম্রিকান ৬০,৭০,৮০-এর মিউজিককে আর লিরিক্যালি কোলকাতা স্টাইলে পিরিতিকে নানাভাবে উপস্থাপন করে। ওয়ারফেইজ অবশ্য বেশ কিছু জ্বালাময়ী গান সংস্কৃত ভাষায় রচনা করে, সাথে পিরিতির গান বাই ডিফল্ট। এবং এই গানগুলা সেই সময়ের মিডল ক্লাসকে ব্যাপকভাবে কানেক্ট করে। যে ছোটলোকের সংস্কৃতিকে মেইনস্ট্রিম করার জন্য রক আসলো তা যেন বঙ্গমুল্লুকে আইসা হাইয়ার ক্লাসের মিডল ক্লাস এন্টারটেইনমেনটে পরিণত হল।

সলো অনেক আর্টিস্টই লোয়ার ক্লাস পর্যন্ত পৌঁছাইতে পারছিলেন । আর ব্যান্ড এবং রকার হিসাবে নগরবাউল ব্যান্ডের জেমস এবং ফিডব্যাকের মকসুদ উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। এদের গানে রক মিউজিক যেন বাংলাদেশি হইয়া উঠছে।

জেমস এবং মকসুদ নিয়া আলোচনা আরেকদিনের জন্য তোলা রইল। ২১ শতকের প্রথমদিকে উল্লেখযোগ্য ব্যান্ড হয়ে উঠছে আর্টসেল,শিরোনামহীন,অর্থহীন,ক্রিপ্টিক ফেইট, মেঘদল, ব্ল্যাক, আর্বোভাইরাস এগুলা। এদের কেউই মধ্যবিত্তের গন্ডি উতরে মিউজিক করতে পারে নাই।

ঠিক একইভাবে এইদেশে র‍্যাপ মিউজিকটুকু আসলেও  তা মিডল-ক্লাস আর হাইয়ার ক্লাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। কপিপেস্টের কালচার তো বটেই, আমাদের রক এবং হিপ-হপ ধারাগুলা কেন জানি এখানে আইসা ছোটলোকের কালচার থেকে বড়লোকের কালচার হইয়া যায়। শুধু কি মিউজিকে, বৈদেশের কে.এফ.সি যেমন আমাদের দেশে আইসা বড়লোকের খাবার ও গসিপের দোকান বনে যায়, ঠিক তেমন। আরো বলা চলে ,লাতিনের স্ট্রিট গ্যাংগুলা যেমন রোডসাইড,শ্যাবি, লোয়ার ক্লাস কিন্তু বাংলাদেশের ঐ উত্তরার বা চিটাং এর গ্যাংগুলাও হাইয়ার ক্লাস পোলাপানদের।

Image result for sin nombre poster hd
‘সিন নমব্রে’ সিনেমার একটা পোস্টার
Image result for city of god movie poster hd
‘সিটি অফ গড’ সিনেমার পোস্টার

লাতিনের গ্যাংগুলার কিছু ইন্ট্রো পাওয়া যায় লাতিনি মুভিগুলাতে। অসংখ্য মুভি আছে হিস্পানিক গ্যাং কালচার নিয়ে। Sin Nombre, City Of God এই দুইটা মুভির নাম উল্লেখ করা হল। এখানে স্পষ্টতই গ্যাং কালচার, তাদের লাইফস্টাইল, ক্লাস, অ্যাবিউজ,ড্রাগস, গ্র‍্যাফিটি রাইটিং ও পেইন্টিং এইসব সাবস্টেন্সের ভিজ্যুয়ালাইজেশন মিলবে। সাথে আমরা পার্থক্য করতে পারবো আমাদের লোকাল কালচারের।

গ্র‍্যাফিটি এবং বি-বয়িং আমাদের কালচারে নাই বললেই চলে। এখানে আছে কিছু রাইটিং, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা’ টাইপের মহা-আবেগি, ভারাক্রান্ত, স্থূল ও মধ্যবিত্তীয় জিনিস। বি-বয়িং এখানে এখানে তেমন একটা চর্চা হয় না। তবে কিছু আছে সার্টেইন ক্লাসে। সর্বসাকুল্যে এইখানে র‍্যাপিংটাই হিপ-হপ হইয়া বইসা আছে।

 

আরও দেখেন

স্লোগান নিয়া খাঁজকাটা কুমিরের রচনা... স্লোগান নিয়া একটা রচনা কিভাবে শুরু করা উচিত ‘স্লোগান একটা গৃহপালিত প্রানী’ এইভাবে নাকি আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটি স্লোগান বয়ে গেছে? ঠিক বুঝতে প...
ইতালো ক্যালভিনোর ‘অদৃশ্য শহর’: পর্ব ৫... প্রাসাদের উঁচা রেলিং থিকা মহান খান সাহেব তার সাম্রাজ্যের বিস্তার দেখেন। প্রথমে দেখেন অধিকৃত অঞ্চলগুলারে মিলায়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিস্তৃত সীমান্তরেখা, ক...
হ্যারি পটার দ্বারা-দিয়া-কর্তৃক নিহত... হ্যারি পটার সম্পর্কে আমি যা জানি: নাথিং। সিরিজের কোন বই আমি পড়ি নাই, কোনো সিনামাও দেখি নাই। জানি যে স্বর্ণকেশি ধনাঢ্য মধ্যবয়স্কা জে কে রাওলিং উ...
No Comments Yet

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: