fbpx

রেইপ ফ্যান্টাসিজ | মার্গারেট এ্যাটউড

[মার্গারেট এ্যাটউড বর্তমান বিশ্বের আইকনিক লেখকদের একজন। ৪০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে কানাডীয় এই লেখকের লেখা। তার বইয়ের পাঠক না এমন অনেকেও আম্রিকান টিভি সিরিজ ‘দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেইল’ এর সুবাদে এ্যাটউডের নামের সাথে পরিচিত। ‘রেইপ ফ্যান্টাসিজ’ এ্যাটউডের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলির একটা। অনুবাদে যথেষ্ট স্বাধীনতা নিয়েছেন অনুবাদক। তারপরও এ্যাটউডের মেজাজ ভালোভাবেই পাওয়া যাবে যথেষ্ট সুখপাঠ্য এই অনুবাদে। কানাডীয় এই কিংবদন্তীর ৭৮তম জন্মদিনে এইটা মাদারটোস্টীয় ট্রিবিউট। – সম্পাদক, মাদারটোস্ট লিটারেচার সেকশান।]

মার্গারেট অ্যাটউড | পোর্ট্রেইট: তারেক বিন কামাল

ক্যানসারের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কার ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর; কিন্তু ম্যাগাজিনে ব্যাপারগুলো এতটাই চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলে যেন সেগুলো আরও বেশি চমৎকার বিস্ময়কর আবিষ্কার বড় হাতের অক্ষরে সেগুলো প্রথম পাতায় ছাপে এবং ভিতরে এই প্রশ্নাবলী রেখে দেয়; যেমন আপনাদের কি স্লিম, সুন্দরী সেক্সি বউ আছে? পেইজ ৭৩ যাদের নিয়ে নাম্বারিং করা যায় এবং নাম্বারিংটা কাকে করতে হবে জানেন? আপনাকেই ধর্ষণ নিয়ে দশটি বিশেষ কথা, যেন ব্যাপারটা নতুন দশটি হেয়ার কাটিং অথবা অন্য বিশেষ কোন স্টাইল আসলে ব্যাপারটায় নতুন কি আছে, সেটাই বোঝাতে চেয়েছে?

কর্মক্ষেত্রে অনেকেই এইসব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন কারণ ম্যাগাজিন খুললে কুতকুতে দৃষ্টিতে আপনাদের দিকেই বিষয়ের লেখাগুলো তাকিয়ে থাকে তারা এইসব কর্মকান্ড টিভিতেও দেখানো শুরু করে দিয়েছে ব্যক্তিগতভাবে জুন এ্যালিসনের সিনেমা যেকোন সময় দেখার জন্য বলি তারা এইসব করেই না বলতে গেলে, এমনকি রাতের শোতেও না উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গত পরশু দিনের কথা, মনে হয় বুধবার হবে, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তাদের মতে শুক্রবার ছিল বোধহয়, মহিলাদের লাঞ্চ রুমে বসেছিলাম আমরালাঞ্চ রুমই বটে, যেখানে কিছুটা প্রশান্তি পাওয়া যাইতে পারে এবং নীরব পরিবেশএবং ক্রিসি ম্যাগাজিন পড়ছিল, সেটা বন্ধ করে বলল,

আপনারা কি ধর্ষণ নিয়ে কোনোদিন কল্পনা করেছেন, করলে কেমন ছিল?’

বরাবারের মত আমরা চারজন ব্রিজ খেলতেছিলাম মাত্র বার পয়েন্ট দিয়ে কোনভাবেই এদের সামনে দাঁড়ানো সম্ভব নয় সেইজন্য একের ডাক দিয়েছিলাম আশা করেছিলাম সন্দ্রা আগেরবার যখন একের ডাক দিয়েছিলাম সেইটা মনে করবে, কারণ তখন সে ভেবেছিল সত্যি একের বেশি তুলতে সক্ষম হবো না যে জন্য সে তিন পর্যন্ত ডেকেছিল এবং সত্যি বলতে এই মুহূর্তে চারটা কার্ডই ছোট ছোট, একটাও ছয়ের বেশি নয় আমাদের পয়েন্ট হয়ত কমে দুই হয়ে যাবে খেলায় মারাত্মক ক্ষতি হবে তবে আশার কথা, সে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল খেলোয়ার না মানে, বলতেছি না যে আমার চেয়েও খারাপ, তবে একটা লিমিট তো থাকে

ডারলিন পাস করে দিয়েছিল কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গ্যাছে বলের মত সন্দ্রার মাথা ঘুরছিল এবং বলল, ‘কিসের কল্পনা?’

‘‘ধর্ষণের,’’ ক্রিসি বলল সে একজন রিসিপশনিস্ট চমৎকার এবং শশার মতই কোমল, দেখলে মনে হবে তাকে কেউ নেইল পলিশ দিয়ে অংকন করেছে মানে একদম বার্নিশ করা বলতে যা বোঝায় তেমন ‘‘এটা বলতেছে সব মহিলারই নাকি ধর্ষণের কল্পনা করে’’

‘‘ধূর বাল! এখন ডিম স্যানউইচ খাব,’’ বললাম আমি, একের ডাক দিছি আর ডারলিন দিছে পাস কইরা’’

হঠাৎ কোন গলিতে কোন সুপুরুষ এসে তোমার উপর হামলে পড়বে, এটাই কি বলতে চাইতেছসন্দ্রা বলল খেলার সময়ই আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে নেই, সেও তার দুপুরের খাবার খাইতেছে সে তার শব্জিতে কামড় বসাল, বরাবরের মতই যা খায় এবং চাবানো শুরু করল, কিন্তু তারচোখ দেখেই বোঝা যাইতেছে কোন কারণে চিন্তিত জানতাম এই গেমটাই তার উদ্বেগের কারণ

হ্যাঁ, কিছুটা সেইরকমইক্রিসি বলল মুখের মেকআপ ভেদ করে লজ্জায় লাল হওয়া মুখটা দেখতে পাওয়া যাইতেছে

রাতের বেলা একা একা বাইরে যাওয়া তোমার উচিত হবে না বলেই মনে হচ্ছে,’ বলল ডারলিন,‘তুমি হয়ত একটা জায়গায় অবস্থান করছিলে ভুল হলেও হতে পারে, কিন্তু সে আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল বৃদ্ধ মহিলা, বয়স প্রায় ৪১ তোমাদের জানার কথা না, এমনকি সে না জানতে পারে, কিন্তু এখানে যারা কাজ করে তাদের ফাইল ঘেঁটে দেখেছি যেকোন মানুষের বয়স আন্দাজ করতে ভাল লাগে, তারপরে মিলিয়ে দেখি ঠিক আছে কিনা অতিরিক্ত আরেক প্যাকেট সিগারেট নিতে চেয়েছিলাম, যদিও সিগারেট ছেড়ে দিতে চাই ক্ষতিকর জানাসত্ত্বেও ছাড়তে পারি না যাই হোক, অন্য লোকের ফাইল ঘাটাঘাটি অপরাধ, কিন্তু কি করব, না দেখেও থাকতে পারি নি তবে এখন মনে হচ্ছে ঠিকই আছে, কারণ তোমাদের তো সব বলেই দিলাম, চাই না তোমাদের তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হোক যদিও তোমরা জানো না, পৃথিবীটা খুবই ছোট যাই হোক

হায় আল্লাহ, বাঁচলাম টরেন্টোতেই আছি,’ গ্রিটা বলল ডেট্রয়েট সে তিন বছর ধরে কাজ করে এবং এই ব্যাপারটা তোমাদের কখনও ভুলতে দিবে না, যেন যুদ্ধের নায়ক বা তার চেয়ে বেশি কিছু আমরা সবাই তার প্রশংসা করি কারণ এখনও সেমাটিতে পা রেখেই হাঁটে যদিও সে বেশির ভাগ সময় উইন্ডসোরে থাকে, শুধুমাত্র কাজের জন্যই ডেট্রয়েট যায়এইগুলা হিসাবের বাইরে ঘুমানোর জায়গাই, ঠিক?’

ভাল, তোমার? ক্রিসি বলল সে সব সময় নিজের কথাই আগে আগে বলার চেষ্টা করে, কিন্তু তা খুবই সাবধানে যাতে কেউ বুঝতে না পারে

আমার, অবশ্যই না,’ নাক কুঁচকে বলল ডারলিন এবং আমি মৃদু হাসলাম, মনে হয় ব্যাপারটা অতি বিরক্তকর সে একজন তালাকপ্রাপ্ত মহিলা, তার ফাইলটাও ভাল মতনই পড়েছি, নিজের বিষয়ে কথা বলতে সে নারাজ বছর খানেক আগের ঘটনা নিশ্চয় না সে উঠে কফি মেশিনের কাছে গিয়েই আমাদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে বসল, এমনভাব যেন তার জীবনেই কিছুই ঘটে নি

‘‘ভাল,’’ গ্রিটা বলল ক্রিসি তার মাঝেই কথা কাটাকাটি হচ্ছে এমনটা মনে হল তারা দুইজনেই স্বর্ণকেশী এমনটাও না যে, নিজেরকে পরিদর্শন করবার চেষ্টা করতেছে গ্রিটা ফাইল নিয়ে আর এগোতে চায় না কারণ সে হয়র রিসিভশনিস্ট হিসিবে নিজেকে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে মানুষের সঙ্গে মিশতেও সে পটুফাইলিং নিয়ে যারা কাজ করে তারা ছাড়া অন্য কারো এই ব্যাপারে আগ্রহ দেখাবে না আর আমি, আমার অন্য ব্যাপারগুলোতে আগ্রহ বেশি’’

‘‘বাহ,’’ গ্রিটা বলল,‘‘মাঝে মাঝে মনে হইত তুমি আমার এ্যাপার্টমেন্ট চিনো? ছোট একটা বারান্দা আছে গ্রীষ্মে সেখানে বসতে খুব ভাল লাগে এবং সেখানে কিছু গাছও লাগাইছি বারান্দার দরজা লাগিয়ে রাখা বিরক্তকর, যা কখনও করি নাই শুধামাত্র চলন্তগ্লাস লাগানো আছে ১৯ তলায় বসবাস করার মজাই আলাদা লেক সিএন টা্ওয়ারের ভিউ দেখতে খুবই মনোরোম লাগে ধর, একদিন নাইট ড্রেস পরে বসে বসে টিভি দেখছি, জুতা খুলে রেখেছি, আরাম করে বসে আছি হঠাৎ করে জানালায় দেখতে পেলাম তার পা জানালা ভেদ করে সে ঢুকে যাচ্ছে পরে কি হবে তা নিশ্চয় বুঝতে পারছো, সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবে মূলত, ২০ তলার্ থেকে দড়ি বেয়ে বেয়ে নিচে নেমেছে তার কষ্টটা বোঝো তার শরীরে কালো পোষাক, হাতে কালো গ্লাভস আমি তখন তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করব কিন্তু ইতিমধ্যে সে ভিতরে প্রবেশ করে ফেলেছে তার কালো পোষাক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে ফেলছে’’ সে কেন কালো গ্লাভে কথা উল্লেখ করেছে সেটা জানি, এমন একজনকে একবার আমি ফেইস করেছিলাম‘‘এবং তারপর সে, মানে..তোমরাই জানো’’

‘‘তোমরাই জানো মানে?’’ ক্রিসি বলল, কিন্তু গ্রিতা তখন বলে,‘‘কিছুক্ষণবাদে সে আমাকে বলে, প্রত্যেকটা ফ্লোরে এইভাবে দড়ি হুক দিয়ে ঘুরে বেড়াইতেছি কথাটা বলেই সে দড়িটা উপর দিকে ছুড়ে মারে এবং দরি বাইতে বাইতে অদৃশ্য হয়ে যায়’’

‘‘টারজানের মত,’’ বললাম, কিন্তু কেউ হাসল না

এইসবই?’ ক্রিসি বলল ‘‘তুমি আসলে বিষয়টা নিয়ে কখনও ভাবোই নি ওকে, বাথটাবে কাপড় ছাড়া শুয়ে থাকা নিয়ে ভেবেছিলাম…’’

‘‘গোসল করার সময় কে কাপড় পরে থাকে?’’ বললাম ‘‘জঘন্য লোকটাকে তুমি তখন আমন্ত্রণ জানাবে, কিন্তু সে তো মাত্র তাকে দেখেছে’’

‘‘বাথটাবে প্রচুর বুদবুদ তৈরি করি, যদিও তা মূল্যবান কিন্তু শিথিল চুলগুলো তখন পিন দিয়ে আটকানো, দরজা খোলা এবং বেচারা সামনেই দাঁড়িয়ে..’’

‘‘সে কিভাবে ভিতরে প্রবেশ করল?’’ গ্রিটা বলল

‘‘ওহ, জানালা বা অন্যকিছু হবে হয়ত, সঠিক জানি না সেখান থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ ছিল না, বাথরুম খুবই ছোট এবং দরজায় সে দাঁড়িয়ে আছে তাই বাথটাবেই নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নাই তখন ধীরে ধীরে সে তার কাপড় খুলে ফেলল এবং তারপরেই হামলে পড়ল বাথটাবের উপর’’

‘‘তুমি চিৎকার করো নাই বা অন্যকিছু?’’ ডারলিন বলল কফির কাপ নিয়ে সে ফিরে এসেছে, বিষয়টা নিয়ে খুবই আগ্রহী মনে হচ্ছে‘‘কেউ খুন করতে আসলে যেভাবে চিৎকার দিতাম, সেইভাবেই চিৎকার করতে পারতাম’’

‘‘কে আমার চিৎকার শুনবে?’’ বলল ক্রিসি,‘‘বেশির ভাগ আর্টিকেলে কি থাকে জানো, তারা বলে বাধা না দিতে এতে নাকি আহত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে’’

‘‘যাই হোক নাক দিয়ে বুদবুদ ছাড়তে পারতে,’’ আমি বললাম,‘‘এক্কেবারে ভিতর থেকে,’’ এবং শপথ করে বলতে পারি, তারা চারজন আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমার রুচি অত্যন্ত খারাপ অথবা ভার্জিন মেরিকে অপমান করেছি বা অন্যকিছু ছোট একটু রসিকতা করলে কি হয়, বুঝলাম না, জীবন অতি ক্ষুদ্র, তাই না?

‘‘শোন,’’ আমি বললাম, ‘‘যারা ধর্ষণ নিয়ে কল্পনা করো নি আমি মনে করি, তোমরা কেউ ধর্ষিত হও নি মাঝে মাঝে কিছু অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়েছ মাত্র যারা দেখতে ডেরেক কমিনসের মত হ্যান্ডসাম ছিল’’সে এ্যাসিট্যান্ট ম্যানেজার শু পরেছিল সোলটা ছিল মোটা একটু পর পরই ফানি ফানি কথা বলে, সেইজন্য তাকে ডেরেক ডাক বলে ডাকি-‘‘এবং তোমাদের সময়টা ভাল ধর্ষণ তো তখনই হয়, যখন কেউ গলায় ছুরি ধরে অথবা অন্য কিছু তোমরা তো তা চাও না’’

‘‘তাহলে, তোমার ব্যাপারে বল, ইসটেল,’’ ক্রিসি বলল, সে আমার প্রতি বিরক্ত কারণ তার কল্পনিক ধর্ষণের কথা শুনে মৃদু হেসেছিলাম, হয়ত ভেবেছিল তাকে ছোট করার জন্যই হেসেছি সন্ড্রাও কিছুটা বিরক্ত, ইতিমধ্যে সবজি খাওয়া প্রায় শেষ করে এনেছে এবং নিজেরটা বলতে আগ্রহী, কিন্তু সে দ্রুত শুরু করতে পারতেছিল না ‘‘ঠিক আছে, এবার আমাকে বলতে দাও,’’বললাম ‘‘রাতের আন্ধারে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি এবং সহকর্মীটি হঠাৎ সামনে উদয় হয়েই খপ করে আমার হাত ধরে অবাক হয়ে ভাবলাম আমার পার্সে তো একটা প্লাস্টিকের লেবু আছে, তোমরা অবশ্যই জানো অনেকেই বলে, সবর্দা পার্সে একটি লেবু বহন করবে সত্যি করতে চাই নি, আবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু সবচেয়ে খারাপ ঘটনাই ঘটলআমার সব চেকবুক বের হয়ে এলো, কিন্তু কল্পনায় একটা আছে ভেবে নিলাম এবং তাকে বললাম,‘‘তোমার ইচ্ছে আমাকে ধর্ষণ করবে, তাই না?’’ সে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়, তখন পার্স খুলে প্লাসটিকের লেবুটা খুজতে লাগলাম, কিন্তু পেলাম না! পার্সের ভিতর থেকে সব জঞ্জাল বের হয়ে এলো যেমনআলতুফালতু আবর্জনা, টিস্যু, সিগারেট, ছোট একটা পার্স, লিপস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সঙ্গে কিছু জামাকাপড় তখন তাকে হাত ছেড়ে দিতে বললাম, সে ছেড়ে দিলে এক পাজা জঞ্জাল তার দুই হাতে ধরিয়ে দিয়ে পার্সের একেবারে নিচে লেবুটা খুজে পেলাম লেবুর রস তার চোখে চিপড়ে ছিটিয়ে দিলাম আশা করি তোমরা ভাবতেছ, এটা একেবারেই সম্ভব নয় ভাল করে চিন্তা করে দেখ, লোকটি ছিল অসম্ভব ভদ্র, তাই এইসব করতে কোন বেগ পেতে হয় নি এটাই আমার ঘটনা’’

‘‘এইটা তোমার কাল্পনিক ধর্ষণ?’’ক্রিসি বলল‘‘বিশ্বাস করি না’’

‘‘সে তো পাগলাটে,’’ডারলিন বলল,‘‘ সে এবং আমি এইখানে অনেক সময় কাটাই সে কখনও সময়জ্ঞান হারায় না, অফিসের পার্টিগুলোতে এমনভাবে মাতাল হই যে টেবিলের উপরে না নেঁচে টেবিলের নিচে গিয়ে নাঁচি টেবিলের নিচে মাথা ঠুকে যায়, প্রকৃতপক্ষে তা ডেস্ক জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারি ঠান্ডায় কাঁপছি সে সিদ্ধান্ত নেয় হয়ত আমার সম্পর্কে সব বলে দিবে প্রকৃতপক্ষে তা নিয়ে ভাবি না যদিও ঐসব কাজগুলো আমি করেছি ঠিকই’’

‘‘আমি পুরোপুরি সৎ,’’বললাম‘‘আমি সব সময়ই আছি এবং তারা এইটা জানে সত্য এক সময় না এক সময় প্রকাশ হবেই তাই এইসব নিয়ে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই, ঠিক?’’

‘‘ ইজিঅফ ওভেন ক্লিনার সম্পর্কে শোনা উচিত তোমার’’

কিন্তু তখন দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় শেষ হয়ে এসেছিল ব্রিজ খেলাটা ঐখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হল পরের দিন হয়ত ভীষণ তর্কের মধ্যেই আবার শুরু করব নতুন খেলা গতকাল যা ভেবেছিলাম আর কি আর এইভাবেই সন্ড্রার কথা একদিনও শোনা হয় হবে না সে ধর্ষণ নিয়ে কি কল্পনা করে তা শুনতে হয়ত আমরা আগ্রহীও না

কাল্পনিক ধর্ষণ নিয়ে চিন্তাভাবনা আমিই প্রথম শুরু করেছিলাম সম্ভবত আমি পাগল বা অন্য কিছু অন্য কিছু হলে কি, নিজেও জানি না, অন্যেদেরও জানার কথা না সত্যি বলতে যখন অচেনা কোন হ্যান্ডসাম লোককে চিন্তা করি যে ধর্ষণ করতে আসবে ভাবতেই কেমন কেমন লাগে আর যদি সে আসে জানালা দিয়ে তাহলে তো কথাই নেই ঠিক মি.ক্লিনের মত ঈশ্বরের নিকট মাঝে মাঝে প্রার্থনা করি যাতে কাউকে পাঠায়, যার শার্টের উপর ঘামের সাদা সাদা চিহ্ন থাকে, পাঁচ ফিট পাঁচের উপরে, বিশ্বাস করুন লম্বা লোকরা ব্যাপারটা দারুণ ভাবে করতে পারে কিন্তু আপনি যদি সত্যিই সৎ হয়ে থাকেন তাহলে বিশ্বাসই করবেন না এইটাই আমার কাল্পনিক ধর্ষণ বাস্তবে ধর্ষণের ব্যাপারটা অন্যরকম সেখানে ক্রোধ থাকে কখনও যদি আপনাদের এ্যাপার্টমেন্টে আগুন ধরে, তখন বুঝবেন তখন আপনি এলিভেটর ব্যবহার করবেন নাকি সিঁড়ি চিন্তা করার সময়ই পাবেন না এমন অবস্থা অনেককিছুই চিন্তাভাবনা করতে পারেন, আসলে সবকিছুই তখন গোলমাল হয়ে যাবে

উদাহরণস্বরুপ, অন্ধকার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি এমন সময় খাটো, কুৎসিত, মুখভরা গুটি নিয়ে একজন লোক এসে আমার হাত চেপে ধরল শুধুমাত্র যে কুৎসিত তাই নয়, দেখতে ভয়ংকরও বটে হতে পারে লোকটির সঙ্গে আপনি ব্যাংকে কথা বলেছেন, যখন ব্যাংকে আপনার বিশেষ কাজ ছিল বলতেছি না যে এমনই হতে হবে কিন্তু তার মুখভরা গুটি, একটু আগে যেইটা বললাম সে আমাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল সে খাটো, কিন্তু প্রচন্ড শক্তিশালী তারপর সে নিজের উম্মোচন করা শুরু করল এবং দেখা যাচ্ছে তার জিপার ফুলে উঠেছে যেকোন মেয়ের জন্য এই ঘটনাটা তার প্রথম বিবাহের মত বা প্রথম বাচ্চা হওয়া অথবা অন্য কিছুর মত

অতি বিরক্তির সঙ্গে বললাম,‘‘ বালডা,’’ এবং সে কান্না শুরু করল সে আমাকে বলল, জীবনে কোনকিছুই সে পায় নাই এবং এটাই ছিল সর্বশেষ একটা আশা, তাও মাটি হয়ে গেল ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়া ছাড়া উপায় নাই

‘‘দেখ,’’বললাম, ‍কাল্পনিক ধর্ষণে তার জন্য খুবই দুঃখবোধ হইতেছিল সবসময় ব্যাপারটা ঘটে, তারা আসে কিন্তু কোন কাজ হয় না এবং শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য দুঃখবোধ করা ছাড়া উপায়ও থাকে না যদি ক্লিন্ট ইস্টউডও হইত, তবু তাদের মন্দ ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটত বলে মনে হয় না আমার মত ছোট্ট এক বালিকা যে নাকি রবিন নামের কাউকে ইতিপূর্বে কবরস্ত করে দিছে, মানে কি বুঝাইতে চাইছি বুঝতেই পারছ আমার মায়ের বাদামগুলোর মতই, যেগুলো কখনই আমাকে স্পর্শ করতে দিত না, মনে হয় হাতে জীবাণু থাকতে পারে এই ভয়ে তখন তাকে বলি, ‘‘শোনো, তোমার ফিলিংস বুঝতে পারি তোমার মুখের গুটিগুলার জন্য অতি সত্ত্বর কিছু করা দরকার এইগুলো কোনভাবে মুখ থেকে ভ্যানিশ করতে পারলেই তোমার চেহারা কয়েকগুণ সুন্দর হয়ে যাবে দেখতে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মনে হবে তখন তোমাকে কোথাও যেতে হবে না এইরকম কাজ করতে ’’ বললাম তবে তাকে বেশি একটা আকর্ষণ করতে পারলাম বলে মনে হল না তাকে কিছুটা মোটিভেট করার চেষ্টা করলাম মাত্র তাকে ডার্মাটোলোজিস্টের নিকট যেতে বললাম, হাই স্কুলে পড়ার সময় যার কাছে যেতাম সেটা ছিল লেমিংটনে তবে সেন্ট ক্যাথেরিনেই বেশি যেতাম তখন আরো বলে দিলাম,‘‘যখন এইখানে প্রথম আসি, খুবই নিঃসঙ্গতা ফিল করতাম, মনে হত একজন সঙ্গী খোজা আমাজন অভিযানের মত এই শহরে লোকজনের সঙ্গে মেশা খুবই কঠিন তবে একজন পুরুষের জন্য নয়’’

অথবা, তীব্র শীতে কম্বল মুড়ি দিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে আছি, মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গ্যাছে, চোখগুলো টকটকে লাল, নাক দিয়ে সর্দি বের হইতেছে এবং তখন সেই লোকটি জানালা দিয়ে ঢুকল সেও প্রচন্ড শীতে কাঁপতেছে একটা নতুন ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছে শহরের আনাচেকানাচে, মনে হল তার সেইটা হয়েছে সে বলল,‘‘তোমাকে এখন ধর্ষণ করব’’ –নিশ্চয় আপনারা ভাববেন নাকের এই অবস্থার পরও সে আমাকে জাপটে ধরবে কিনা কিন্তু এইভাবেই আমি কল্পনা করেছি এবং তার নাক দিয়েও অবিরত সর্দি ঝড়ছে, যেই জন্য সেও কিছুটা আংশকায় আছে কিছু করবে কিনা আমার ভিতরে সে কোন সৌন্দর্যই খুজে পাচ্ছে না আমার এখন যে অবস্থা, আমাকে ধর্ষণ করলে মনে হবেএকটি বোতলের সঙ্গেই করছো, যার নাকমুখ দিয়ে অবিরত পানি পড়ছে কিছুটা বিকৃত

পাগলের মত চারপাশে তাকাইতেছিল বুঝতে পারলাম ক্লিনেক্স নেই বলে তার মাথার ঠিক নেই ‘‘এইখানে চালাই’’ বললাম এবং তাকে ক্লিনেক্সটা দিলাম ঈশ্বরই জানেন, কেন সে বিছনা থেকে বের হতে চাইল হয়ত ভাবতেছেন, জানালা দিয়ে বের হয়ে যাবে কিন্তু ভাল স্বাস্থ্য না হলে তা করা একটু সমস্যা, ঠিক? মানে, দেয়াল বেয়ে উঠার সময় ভালই শক্তি লাগে তখন তাকে প্রশ্ন করলাম, নিউসিটরান এবং স্কচ বানাবো কিনা যেইটা সব সময় নিয়ে থাকি তোমার এখনও শীত লাগতাছে কিন্তু এখন তো তেমন কাঁপাচ্ছে নাতারপর বানালাম এবং একসাথে লেট শো দেখা শেষ করলাম মানে বোঝাইতে চাইছি, সবাই সেক্সে জন্য পাগল না তারা বাকি সময় স্বাভাবিক জীবনযাপনই করে তারা অন্যান্য লোকদের মত লেট শো দেখেই ঘুমাতে যায়

যখন লোকটি বলল, স্বর্গীয় বানীতে তোমাকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে, তখন দারুণ ভয় লাগল এইরকম ঘটনা সচরাচর ঘটে, সেগুলো পত্রপত্রিকায় ছাপাও হয়, দেখেছ নিশ্চয় সেই সময় নিজের এ্যাপার্টমেন্টে ছিলাম না, কল্পনায় চলে গিয়েছিলাম মায়ের বাড়িতে লেমিংটনে আমার মা থাকেন লোকটি আন্ডারগ্রাউন্ডে লুকিয়েছিল, আচার আনতে সেখানে যেতে খপ করে হাত ধরে ফেলে তার সঙ্গে ছিল ধারাল কুড়াল সেই গ্যারেজের বাইরেও অস্ত্রটা অতি ভয়ংকর এইরকম পাগলের সামনে কি বলা যেতে পারে, ভাবো?

তখন আমি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকি, কিন্তু কয়েক মিনিট পরে নিজেকে সংযত করে তাকে বলি, স্বর্গীয় বানীতে কি আমাকেই হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? আপনি কি এইব্যাপারে নিশ্চিত কারণ এইমাত্র নিজেও স্বর্গীয় বানী শুনলাম এবং তারা বলতাছে যে, সেন্ট আনাকে আমি পুর্নজন্ম দিব যে পরবর্তীতে কুমারী মেরিতে পরিণত হবে এবং তারপরেই আসবে যীশু খ্রিস্ট এবং পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এই ব্যাপারে নিশ্চয় তিনি কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দিবেন না, তাই না? এই কথা শুনে বিভ্রান্ত হয়ে গেছিল কিছুক্ষণ নীরবে কি যেন শুনল তারপর জিজ্ঞেস করল, কোন প্রমাণ আছে? তাকে তখন টিকা দেওয়ার ফলে যে চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছিল সেইটা দেখাই চিহ্নটা বিকৃত হওয়ার ফলে অন্যরকম দেখাইতেছিল মূলত সংক্রমিত হয়েছিল কারণ উপরের অংশে নিজেই স্কেচ করে রেখেছিলাম এবং স্কেচটা কাজেও দিয়েছিল সে আমার নিকট ক্ষমা চায় এবং প্রস্থান করে যেখান থেকে এসেছিল সেখানে হয়ত চলে যায় পরে নিজেকেই বললাম, ক্যাথলিক হলে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়, তবে যেদিন থেকে ইংরেজিতে সবকিছু শুরু করেছে, সেদিনের পরে আর গির্জায় গিয়েছি কিনা মনে পড়ে না অনেকেই হয়ত অবিশ্বাসী ভাবতে পারো মা অবশ্যই লিখে জানাবো যাতে নিজের অংশটা ধ্বংস করে ফেলে, সবর্দাই জায়গাটুকু আমাকে প্যারা দেয় একটা মজার ব্যাপার হলো তোমাদেরকে বলিই নি, লোকটা দেখতে কেমন ছিল, সত্যি করে বলতে নিজেরই মনে নেই, তবে তার শু কেমন ছিল সেইটা মনে আছে, কারণ শেষ যখন দেখলাম সে কয়লার উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এবং আমার নজর ছিল তার জুতার দিকে পুরানা মডেলের একটা শু পরেছিল এমনকি সে যুবকই ছিল, ভাবতেই অবাক লাগছে তাই না?

যতক্ষণ না সে নিরাপদে বাইরে চলে গেল, চিন্তায় ঘামতেছিলাম উপরে এসেই এক কাপ চা করি নিজের জন্যচিন্তা করতে পারছিলাম না কি ভয়ংকর! মা সবসময় বলতেন, কখনও খারাপ কিছু নিয়ে ভাববে না, তার সঙ্গে আমি একমত চিন্তা একটা খারাপ রোগ করলে করতেই মন চায়, যেন নেশা

আমি একজন কুংফু বিশেষজ্ঞ, বিশ্বাস করতে পারছ না কোন খাটো লোক যদি আমার হাত জাপটে ধরে তার কিন্তু নিস্তার নাই বাস্তব জীবনে সত্যি সত্যি তার নাক ভেঙ্গে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে এমনকি তোমার টনসিল ঘুষি মেরে বের করে দেওয়ার ক্ষমতাও আছে তখন ঘুমে থাকলে জাগতে বাধ্য হবে এমনকি ঘাড়ও না ভাঙ্গলে বুঝতে হবে আপনার ভাগ্য ভাল তবে কথা হচ্ছে, কোনদিন কিন্তু ভলিবল খেলি নাই বলটা কিন্তু বেশ বড়, জানোই তো? এবং হয়ত তখন আঙ্গুল দিয়ে তার চোখ দুটি গেলে দিতে পারি, সে নিশ্চিত পড়ে যাবে, তাকে কোন দেয়াল বা অন্য কোন দিকে ঠেলে দিতেও পারি কিন্তু নিজের আঙ্গুল দিয়ে কারো চোখ গালতে বিব্রত হবো, তাই না? মনে হবে কোন গরম জেলিতে আঙ্গুল ঢুকিয়েছি এটা কেমন একটা অনুভূতি দিবে চিন্তা কর নিজেকে দোষী মনে হবে, কারণ যখন রাস্তা ঘাটে চলতে যাবো, বারবারই মাথায় আসবে কেউ একজন অন্ধ

কিন্তু কোন পুরুষের জন্য ব্যাপারটা আলাদা

সবচেয়ে স্পর্শকাতর গল্পটা বলি, যখন সেই লোকটা আমার হাত ধরবে, তখন তাকে অতি দু:খী কণ্ঠে জানাবো,‘‘একটা লাশকে ধর্ষন করবা তুমি’’ এই কথা শুনলেই তার মন অন্যরকম হয়ে যাবে এবং তখন তাকে ভাল মত ব্যাখ্যা করে বলব, আমি একজন লিউকোমিয়া, ডাক্তার বলেছে আর মাত্র কয়েক মাস জীবিত থাকব সেইজন্য রাতের আঁধারে ঘুরতে বেড় হয়েছি আমাকে অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে নিজের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতিগুলো নিয়েও ভাবতে হবে বাস্তবে লিউকোমিয়া আমার নেই, তবে কাল্পনিক জগতে সৃষ্টি করেছি এই রোগটাকে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে গ্রেড ফোরের একটি মেয়ের পক্ষে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অবাক কোন বিষয় না, তখন দেখা যাবে সবাই আমার জন্য হাসপাতালে ফুল পাঠানো শুরু করবে আমি বুঝতে পারি না, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কোন মেয়ে মারা যায় কিনা, তবে চাই এইটা আমার হোক, যাতে ফুলগুলো পাই বাচ্চারা খুবই মজা করতে পারে, তাই না? এবার ব্যাপারটা উল্টো করে দেখলে কি দাড়ায়, ধরো, সেই লোকটারও লিউকোমিয়া জীবনের মাত্র কয়েকমাস অবশিষ্ট আছে সেইজন্যে সে রাস্তায় বের হয়েছে কোন মেয়েকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে জীবনের সবচেয়ে তিক্ত স্বাদ পেয়েছে কারণ সেযুবক হওয়া সত্ত্বেও দ্রুত মারা যাবে, জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে, কেমন বিচার? অতএব, তখন দুইজনেই রাস্তার বাতিগুলো নিচে হাঁটতে থাকব বসন্তকাল হালকা কুয়াশা চারপাশে শেষ পর্যন্ত কফি পান করার উদ্দেশ্যে হন্টন বন্ধ করলাম আমরা তখন সুখী সুখী অনুভব করব, কারণ একজনের দুঃখ অন্যজন বুঝতে পারতেছি খুব ভাল মতন দুইজনের ভাগ্য একভাবে আঁকা হয়েছে কিছুক্ষণ পরে একেঅন্যের দিকে তাকিয়ে থাকি হাতেহাত রাখি সে আমার সঙ্গে এ্যাপার্টমেন্টে চলে আসে এবং মৃত্যুর আগের মাসগুলো একসাথে কাটাই সচরাচর খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম না, কারন কেউ জানি না কে আগে মারা যাবে যদি সে হয়, তাহলে কল্পনায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটা পালন করব, কিন্তু আমি হলে সে পর্যন্ত যাওয়ার কোন প্রয়োজনই নেই অতএব বোঝা্ই যাচ্ছে দারুণভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম তখন তুমি এইসব বিশ্বাস করবে না, কিন্তু বিশ্বাস কর, মাঝে মাঝে এইসব ভেবে কান্নাকাটি করি সিনেমার শেষ দৃশ্যও কাঁদি, এমনকি যেসব সিনেমার শেষে ট্রাজেডি থাকে না, সেসব ক্ষেত্রেও মনে হচ্ছে, দুইটা একই ব্যাপার আমার মা পছন্দ করে এই বিষয়টা

সবচেয়ে মজার বিষয়টা হচ্ছে, এইসব কাল্পনিক জগতে যতলোক আসে সবাই অপরিচিত কিন্তু ম্যাগাজিন একটা পরিসংখ্যাণ করে বলেছে যে, বেশির ভাগ ধর্ষকই পরিচিত কেউ না কেউ কমপক্ষে অল্প পরিমাণ হলেও পরিচিত যেমন তোমার বস অথবা অন্য কেউ মানে আমার বস হতে পারে তার বয়স প্রায় ষাট তার ধর্ষণ করার ক্ষমতা নেই বললেই চলে তবে হ্যাঁ, ডেরেক ডাকের মত কেউ হলেও হতে পারে তাকে দেখতে সুপুরুষের মতই লাগে তার এলিভেটর শুতে দারুণ মানায় অথবা অন্য কেউ যার সঙ্গে মাত্রই পরিচিত হলে যে তোমাকে ড্রিঙ্ক করার জন্য আমান্ত্রণ জানাবে তুমি যদি কোন লোককে একেবারেই বিশ্বাস করতে না পারো, তবু সামাজিকতার খাতিরে হয়ত তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলে যাবে তখন অনেক কিছুই ঘটতে পারে, তাই না? তুমি নিশ্চয় গোপন কোন জায়গায় সারাজীবন থাকতে পারবে না, বা নিজের এ্যাপার্টমেন্টে বন্দী থাকতে পারবে না আমিও কিন্তু কখনও ড্রিক করার জন্য কাউকে বাসায় ডাকি না এমনকি অন্য কোন মনোরোম পরিবেশে এমনকি মহিলাদের সঙ্গেও না যেখানে সবসময় বসি, সেখানকার ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করেও দেখতে পারো, কেউ আমাকে ঘাটায় কিনা?

আমি আসলে জানি না, তোমাকে এইসব কেন বলতেছি, যদি না এইগুলো তোমার কোন উপকারে আসে যাতে তুমি কোন লোককে সহজেই চিনতে বা বুঝতে পারো, তবেই আমার সফলতা কর্মক্ষেত্রে সবাই আমাকে চিন্তক বলে আসলে কিন্তু ততটা চিন্তা করি না শুধুমাত্র সবকিছু নিয়ে নিখুতভাবে মনোযোগের চেষ্টা থাকে এছাড়া কিছুই না

যাই হোক, এই ব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বলেছে এবং বলতেছে প্রকৃতপক্ষে এইরকম কাল্পনিক বিষয় নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলেছি বলতে ভালও লাগে আমি কি বললাম, সে কি বলল, এইসব না ভেবে তোমার উচিত নিজ থেকেই আলোচনায় যোগদান করা এইসব কাজ কোন সহকর্মী কিভাবে করতে পারে চিন্তা করা যায় না, তুমি তাদেরকে বোঝাতে পারো, তুমিও একজন মানুষ, তোমারও জীবন আছে, আমার মনে হয় না তারা কোনরকম খারাপ ব্যবহার করতে পারবে, ঠিক? মানে, আমি জানি এইসব হচ্ছে কিন্তু ব্যাপারটাই বুঝতে পারি না আসলেই বুঝতে পারি না

আরও দেখেন

আমার বাবা বসে থাকে অন্ধকারে... জেরোম ওয়াইডম্যান অদ্ভুত একটি  অভ্যাস আছে আমার বাবার। অন্ধকারে বসে থাকতে পছন্দ করে সে, একা একা। মাঝেমধ্যেই আমি দেরিতে বাসায় ফিরি। সমস্ত বাড়িঘর অন্ধ...
Avatar
হুমায়ূন শফিক

গল্পকার ও অনুবাদক।

No Comments Yet

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: