fbpx

শহীদুল জহিরের ডায়েরি

[ লেখকের ব্যক্তিজীবন নিয়া তাই পাঠকের কৌতূহল স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আর সেই লেখক যদি হন শহীদুল জহিরের মতো নিভৃতচারী কেউ, তাহলে কৌতূলের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শহীদুল জহিরের ডায়েরি সেই কৌতূহল কিছুটা হলেও মেটাবে। সাক্ষাৎকারে জহির বলছিলেন, ‘যে নিঃসঙ্গ নয়, সে হতভাগ্য’। অথচ তার ডায়েরিতে নিঃসঙ্গতা নিয়াই তাকে বিষাদগ্রস্ত হতে দেখি। বাবার সাথে দূরত্ব, প্রেম ও ঝুলে  থাকা সম্পর্কের জটিলতা, ভোগবাদ ও সফিস্টদের দর্শনের দ্বন্দ্ব, দস্তয়ভস্কির ‘বঞ্চিত লাঞ্ছিত’ পড়ে আলোড়িত হওয়া,  নিজের ইক্সেন্ট্রিসিটি এবং সর্বোপরি যেকোনো চিন্তাশীল লেখকের মতোই অবিরল নিজের চিন্তাগুলিরেই প্রশ্নের মুখোমুখি করা অকপটে… জহিরের ডায়েরিতে এমনই দ্বন্দ্ব ও বৈপরীত্যের দেখা মেলে, যাকে তিনি বলেন, হিউম্যান ড্রামা। ডায়েরির  পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে এক ভিন্ন ও আশ্চর্য ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’র  ছবি।  প্রিয় পাঠক, সেই  আশ্চর্য জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ভূবনে আপনাকে আমন্ত্রণ। … সম্পাদক]    

৩০ মার্চ, ১৬ চৈত্র ১৩৮৬

সমস্যা ছিলই। শুধু আশাপানা(?) প্রতিবেশের ভিতর নয়, সমস্যা এই ঘরেও ছিল অভাব অনটন, টানাপড়েন আর কতগুলো মানবিক জটিলতা ছিল। এখনো আছে সে সবই প্রায়। ঘরে এখন এর উপরে এসেছে ব্যাধি। প্যারালাইসিস। ব্যাধিটা নতুন কিছ নয় কত লোকেরই তো প্যারালাইসিস হয়, হয়েছে। দেখেছি, শুনছি। এই দেখাশোনার বাইরেও  বোধ হয় একটা জিনিস আছে। উপলব্ধির বোধ হয় স্তরভেদ  আছে। আগুনে হাত পুড়বে এটা এক ধরনের অনুভব আর হাতে তৃণাগুন লেগে পোড়াচ্ছে সেটার ধরণ অন্য, ব্যাপারটা যেন বুঝতে পারছি। আব্বার অসুখটা মাস খানেক ধরে বাড়াবাড়ি চলছে। হাঁটতে তো হয়।  কথা বল;এন জড়িয়ে অস্পষ্টভাবে, ঠিকমতো কিছুই বোঝা যায় না। তার কষ্ট কী ধরনের বুঝতে পারছি না। শারীরিক কষ্ট বোধ হয় নেই। কষ্টহীন জড়ত্বই বোধ হয় এ রোগের মূলধারা। আর সেটাই সম্ভবত সবচাইতে দূর্ভাগ্যজনক। বোধ আর বোধি মোটামুটি টিকে থাকতেই দৈহিক জড়ত্ব এগিয়ে এল। আব্বা কেমন অনুভব করেন জানি না, তাছাড়া কথা বলতেই তিনি অপারগ, তবে আমার খুবই খারাপ লাগছে।  এ খারাপ লাগা ব্যাখ্যাতীত। এ দুঃখের করাকরির উৎস খুবই সংকীর্ণ, অর্থাৎ একজন ব্যাধি জরাগ্রস্ত আত্মীয়, এই সংকীর্ণতা সত্ত্বেও সব সময় একটা স্পষ্ট এবং ব্যাপক অনুভুতি আমাকে জড়িয়ে ধরে। মানুষ সত্যি অসহায় রয়ে গেছে। বিজ্ঞানকে এগুতে হবে আরো অনেক অনেক দূর।

 

৩১ মার্চ, ১৭ চৈত্র ১৩৮৬

কেন যে ডায়েরি লেখা শুরু করলাম – এতোদিন পরে, জীবনে এই প্রথম! বিস্ময় লাগছে আমারও, প্রশ্নও জাগছে। উত্তরটা তেমন পরিষ্কারভাবে জানি না শুধু এটুকু মনে হয় শুধু খেয়াল বা ইচ্ছে নয় এর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। মিন্টুর বাড়ি ছেড়ে পালানো আবার ফিরে আসা, আব্বার অসুখ এসব মিলে দিনগুলো কেমন যেন  পৃথক হয়ে গেছে। বাস্তব সংকট এসে অলস সংকটের খেয়ালকে তুচ্ছ করে দিয়েছে। জীবন স্বপন আর পলাতক রোমান্টিসিজমের সমাহার মাত্র নয়। জীবন বহন করতে হয়, জীবন এড়ানো যায় না। আর জীবন সংকটের ভিতর দিয়ে এগোয়। কি ভয়াবহ সুতীক্ষ্ণ দাঁতালো দিন আসে। কামড়ায়। একা লাগে ভীষণ। আশ্বর্য কি নিদারুণ রকমের একা হয়ে গেছি আমরা। দুঃখগুলো একা একা ভোগ করি সংকটেও তাই একা আটকে যাই।  সংকটগুলো অনেকসময়ই সমাজ ভূমি থেকে উঠে আসে ব্যাক্তির জীবনে আর তার ব্যাক্তিক হয়ে যায়, সামাজিক থাকে না, থকছে না। এই একা অবস্থায় বড় অসহায় লাগে। যোগাযোগের অভাব তীব্রভাবে অনুভব করি –ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির এবং সমষ্টির। হাতের কাছে কোনো আশ্বর্য প্রদীপও নেই যে কাজে লাগাব। এই অবস্থায় কী করা যায়? কথাতো বলা দরকার, দিন যাপনের গ্লানি জমে জমে বুকটা ভার করে দেয়। ভার মুক্ত হওয়ার উপায় কি? তেমন লোক নেই হাতের কাছে। তাই বিকল্প গ্রহণীয়। বিকল্প হচ্ছে এই ডায়েরি লেখা। এর প্রয়োজনীয়তা এর লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর কোনো উদ্দেশ্য নেই এর পিছনের মহৎ বিরাট অথবা কালজয়ী।

 

৩ এপ্রিল, ২০ চৈত্র ১৩৮৬

দিন বড় একঘেয়েভাবে কাটছে। অফিস আর বাসা, বাসা আর অফিস। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ নেই বললেই চলে। সবাই আছে নিজের নিজের ধান্দায়। অফিসেই যা একটু ভালো কাটে। অবশ্য সেখানেও আমার কাজকর্ম খুবই কম। প্রচুর অবসর। অনেক সময় বিরক্তিকর অবসর। তবে গল্পগুজব করার সুযোগ আছে প্রচুর। তার ফাঁকে ফাঁকে হালকা খাওয়াদাওয়া। আজকে […]*   মুড়ি খাওয়ালো। ভালোই লাগে। তবে প্রথম দিকে আরও ভালো লাগতো। ইদানিং পরিবেশটা কেমন যেন একটু জটিল হয়ে উঠেছে। মন-কষাকষি পরিবেশটাকে অস্বস্তিকর করেছে কিছুটা।
তবু অনেকসময় সময় কাটে না। আসলে কাজ নিতান্তই আমার কম। অনেক সময় গ্লানিকর লাগে, অপরাধীও মনে হয় নিজেকে, যদিও জানি আমার কিছু করার নেই। শুধু অফিসে যাওয়া আর বসে থাকা। আমি অবশ্য মাঝে মাঝে বই পড়ি। কয়েক দিন হলো দস্তয়েভস্কির বঞ্ছিত লাঞ্ছিত বইটা নামে বইটা পড়ছি।  ভালোই লাগছে। মানব জীবনের কতগুলো মানসিক জটিলতা কাহিনীকে বেঁধে রেখেছে যে জটিলতা, ধরণ এবং প্রাবল্যে, অনেক সময়ই হাস্যকর রকমের হৃদয়বিলাস। দস্তয়েভস্কি সম্ভবত এইটেই দেখাতে চেয়েছেন যে একশ্রেণির মানুষের সংকট কি নিছক উচ্চমার্গীয়। রুশ সাহিত্যের কাহিনী চিত্রণ এবং বর্ণনাশৈলী সব সময়ই আমার ভালো লাগে। বঞ্ছিত লাঞ্ছিত  এর ব্যতিক্রম নয়।

 

১১ এপ্রিল ৬ বৈশাখ ১৩৮৭

আব্বা এখনো হাসপাতালে। তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজনীয়তা, ডাক্তারদের ক্ষমতানুযায়ী, কবে শেষ হবে বোঝা যাচ্ছে না। বাসায় যা চিকিৎসা হচ্ছিল হাসপাতালে গিয়ে তার চাইতে এমন ভিন্ন কিছুই হচ্ছে না বলেই মনে হয়। গত পনেরো দিনে মাত্র একবার  heat therapy  দেয়া হয়েছে। ডাক্তাররা ঠিকমতো বলেও না কী তারা করছে, কী করতে চায়, কী রোগের কী চিকিৎসা করা হচ্ছে সে সম্পর্কে তারা আমাদেরকে প্রায়ান্ধকারে রেখে দিয়েছে।
গতকাল এক পশলা হঠাৎ বৃষ্টির পর গরম আবার বেড়েছে। গরমে গরিব নাগরিক জীবনের দুর্দশা চরমে উঠে যাচ্ছে। কালকের বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি অবশ্য এনেছে। এটা ছিল মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। ফসলের জন্য বৃষ্টিটা উপকারী হবে অবশ্য পাটের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে, কারণ শিল পড়েছে খুব। এটা আশ্বর্যজনক হলেও আশ্বর্যজনক নয় – এই নিছক নাগরিক জীবনযাপন করেও ফসলের ক্ষেতে প্রথম বর্ষার প্রভাব নিয়ে ভাবনা মোটামুটি আরামপ্রদ শহরুগুলোতে আমরা কিছুটা ভালো থাকতে পারি। গ্রামের মঙ্গলামঙ্গলের ব্যাপারে তাই ভাবনা হয়। গ্রামেই শুধু জাতীয় সম্পদ তৈরি হয় এবং তার ভোগের অধিকার চলে আসে মূলত শহরবাসীদের কাছে। মধ্যবিত্তের ভোগের পিঠা আয়তনে ছোট, অনেক ব্যাপারে খুবই ছোট, তবু যেটুকু পায় তার জন্যই তার ভাবনা। ভাবতে খারাপ লাগলেও, এটা যে সত্যি, আমিও তেমনি একজন মধ্যবিত্ত।

 

১৩ এপ্রিল, ৩০ চৈত্র ১৩৮৬

চৈত্রের শেষ দিনটি চলে যাচ্ছে। কালকে পহেলা বৈশাখ। একটি বছর শেষ হয়ে নতুন একটি বছর শুরু হচ্ছে। ব্যাপারটা বিরাট কিছু মন করতে ইচ্ছে করলেও জানি ব্যাপারটার তেমন কিছুই বিশেষত্ব নেই অন্তত আমার মতো অগণিত লোকের জীবনে। আজকে রোববার ছিল। সারাটা দিন ঘুমিয়েই কাটিয়েছি। কিছু করার ছিল না, আর ক্লান্তি লাগছিল।
এখন আর একটা বড়ি খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই হয়। বছর শেষ হবে এভাবেই, বছরের পর বছর।

 

২০ এপ্রিল, ৭ বৈশাখ ১৩৮৭

আজকেও সকালের পর থেকে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। ধরতে গেলে সারাটা দিনই একটু আধটু বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ ছিল মেঘলা। আজকে ছিল রোববার। বেশির ভাগ সময়ই ঘুমিয়েই কাটাতে হয়েছে। ঘরে বসে করার মতো কিছুই ছিল না, কিছুই থাকে না। বৃষ্টি দ্যাখে কাব্য করার সামর্থ্যও নাই। দেয়ালের কাছে কৃষ্ণচুড়া গাছটায় লাল থোকা ফুল ঝুলছে। জানলায় বেয়ে ওটা মাধবীলতা ফুলে ছেয়ে আছে। এর সঙ্গে জল আর হাওয়ার খেলা। পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ দরজা খুলে বেরিয়ে আসে কখনো। কিন্তু সময়কেউ তাকে দেখার, অনুভব করার, রসনা করার। বঞ্চনার জীবনই আসলে এরকম। শূন্যতার ঘোর পাকস্থলী থেকে মস্তিষ্ক সর্বত্র বিস্তৃত হয়ে থাকে। তাই দেখা হয় না কৃষ্ণচুড়া ফুটেছে। মনে হয় কী লাভ। প্রতিনিয়ত যা করছি তার কোনো কিছুতেই যে লাভ হচ্ছে এমন মোটেই নয় –লাভহীন লোট বওয়া সর্বক্ষণ সবর্ত্র চলছে বলতে গেলে অনিচ্ছায়। আর সেজন্যই বোধ হয় লাভের, অর্থময়তার এমন অহর্নিশ অনুসন্ধান। আর তাই অবচেতনভাবে এওই অনুসন্ধান প্রকট হতে হতে যান্ত্রিক বোধের জন্ম দিয়েছে। অর্থময় তেমন কিছুই নেই। তাই ঘুমিয়ে থেকেই দিনতি কাটিয়ে দাও। বৃষ্টির সাথে কি জীবনের  জটিলতা দূর করতে পারবে? তা যখন পারবে না তখন বৃষ্টির গান শুনে কী হবে। এ এক বিশ্রী অনুভূতি, বুঝি। জটিল বাঁক আর প্যাচ থাকবেই। এসব সরে যাবার অপেক্ষায় বসে থাকলে একসময় কৃষ্ণচুড়ার ফুল ঝরে যাবে, বারিধারা থেমে যাবে, সময় ফুরাবে।

 

২৫ এপ্রিল, ১২ বৈশাখ ১৩৮৭

একটা জিনিস প্রায়ই শুনছি, জীবন নাকি একটাই যাপন করার মতো। ব্যাপারটা আমি বুঝি এবং সরাসরি অর্থে এবং বক্তব্যে আমার বিশ্বাস আছে। কিন্তু কথাটার একটা উলটো পিঠ আছে বোধ হয়, যারা কথাটা উচ্চারণ করে সেটাই তাদের কাছে সোজা পিঠ। যার অর্থ ভোগ করো, আমি ভোগবিরোধী দর্শনের প্রবক্তা, সমর্থক নই। কিন্তু কথা হচ্ছে ভোগের সামগ্রী কই? নেই, আবার আছেও। অনেকের সব সময় আছে অনেকের কোনো সময়ই নেই, মধ্যে রইলো সেই শ্রেণি যাদের নেই বটে কিন্তু বিষেষ ব্যবস্থা করার আমার কোনো যোগ্যতা নেই এবং সত্যি সত্যি একধরণের অভ্যস্ত অনীহা আছে। রুবেলের ঘরে গিয়েছিলাম অফিস থেকে সোজাসুজি। সন্ধেয় ফিরেছি। দেয়ালে ক্যালেন্ডারে এক মেয়ে চোখে আগুন জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ক্যাসেটে সর্বক্ষণ বাজল ডোনা সামাজের গাওয়া মৈথুন শীৎকারসম্বলিত আদিম সংগীত। এটা কি ভোগ! মুখে ও মনে যে ফেনা উঠে গেল এটাই ভোগ! ভোগের বিকার। আমি লোকে যখন জীবনযাপন করার পরামর্শ দেয় তখন তারা ভোগ করাকেই বুঝায় – এবং আমি জানি সেটা নিশ্চিতভাবেই শারীরিক ভোজন এবং মৈথুন। কিছু মুদ্রা জোগাড় করে আমরাও, যদি অন্যভাবে নীরস না হয়ে থাকি, যেমন আমি, তার ব্যবস্থা করতে পারি। কিন্তু শরীরের বাইরে কি কোনো ভোগ নেই, থাকবে না? শুধু চামড়া আর মাংস এর ব্যতিক্রম নয়।

২৭ এপ্রিল, ১৪ বৈশাখ ১৩৮৭

মেয়েটার সঙ্গে দেখা হল আবার আজকে কতদিন পরে। কী যে সুন্দর মেয়েটা, আর কী যে পরিপাটি ওর রুচিবোধ। ভালো লাগে। অথচ একই সঙ্গে কি তীব্র এক অন্তলীন খারাপ লাগা। যে জন্যই আমি ওকে দেখতে চাই না, ইচ্ছে করে প্রচন্ড, তা সত্ত্বেও না। এত এক টানাপড়েন, দ্বন্দ্ব এবং আমি জানি এখানে কোনো শৌখিন বিলাস নাই। ওর ঘরদোর গোছানো ওর চালচলন ছিমছাম ভালো লাগতে চায়, ভালো লাগতে চায়, মনে হয় ভালোবাসি কিন্তু না বুকের ভেতর একই সঙ্গে আমার আছে ঘৃণা। কারণ আমার চেতন-অবচেতন মনে কিছু বোধ জন্মে, টিকে আছে, এই বোধই আমাকে বলে দেয় ও পৃথক, ওরা পৃথক। ওর সৌন্দর্যকে ওর অনেক সময় অপরূপ মনে হওয়া গুণাবলি এবং রূচিবোধকে আমি কি তীব্রভাবে ঘৃণা করি প্রায়ই। বোঝাতে পারি না কেন। ইচ্ছে করে সৌন্দর্যের এই পরিমন্ডলে ডুবে যাই, মৃত হয়ে অনন্ত হয়ে যাই ওর মুখের কারুকাব্য চোখে ধরে রেখে। কিন্তু তা হয় না। ওকে দেখলেই আমি উলটো জেগে যাই। ওর তৈরি করা ন্যুডলস আর চটপটি খেতে খেতে ইচ্ছে করি বলি, কী জঘন্য রকমের চমৎকার জিনিস। কী সুস্বাদু, অথচ কী বাজেই না লাগে তেমন তেমন খাবার খেতে যা আমি কখনো আমার বাসায় খাই না। এগুলো হয়তো একধরণের হিংসা। ঐ সুখগুলোর অধিকারও আমি পেতে চাই স্বাভাবিক নিয়মে। সামাজিক সুখ বন্টনের অংশ হিসেবে। আর ওই মুখটা! আহ্‌ কী সুন্দর মুখটা, সেটাও বিবিধ উপচারে লাবণ্যময় – আমি যেসবের অধিকারী নই। সুন্দর এবং সৌন্দর্য আমার জন্যে নয়  তাই ঘৃণা হয়, ক্ষিপ্ত লাগে। সুন্দরকে বলতে ইচ্ছে করে না। আহ্‌ কী  যন্ত্রণা!

 

২৮ এপ্রিল, ১৫ বৈশাখ ১৩৮৭

আমার ছোট গল্পের পাণ্ডুলিপিটি আজএ বিকেলে মুক্তধারা প্রকাশনীতে দিয়ে এসেছি। যাব যাচ্ছি এমন ভাবনা অনেকদিন থেকেই চলছিল, যাওয়া হচ্ছিল না একধরণের আশ্চর্যজনক সংকোচ মিশ্রিত ভীতির জন্য। ব্যাপারটা বোধ হয়, আমার অস্তিত্বের স্বার্হতকতার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। আমি লিখতে চাই। আর লিখে কী লাভ যদি তা প্রকাশিত না হয়? আর যদি কঠিন হয় তবে তার প্রকাশনা কঠিনতম। সেই কঠিনতম কর্মটির প্রক্রিয়া শুরু করা আমার জন্যে খুবই অসুবিধাজনক ছিল সেটা ধরনা দেওয়া –যা আমি একদম পারি না। মুক্তধারা অবশ্য খুব সহজেই পাণ্ডুলিপিটি রাখল –সাহস করে গিয়েছিলাম তাই না। এরপর বসে থাকতে হবে ভাগ্যে কী নির্ধারিত হয় সেটা দেখার জন্য। ওদের যদি পছন্দ হয় আমার লেখা, যদি ভালো লাগে, মন গলে, তাহলে প্রকাশ এবং মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নেবে ওরা। ভালো না লাগলে সব আশা-ভরসা শেষ। ওরা শুধু বিবেচনা করে দেখার জন্য পান্ডুলিপিটি গ্রহণ করেছে, তাতেই কী খুশি আমি। তবুও তো একটা সুযোগ দিয়েছে; অন্যেরা তো কথাই বলেনি। সময় আমার জন্যে কি বয়ে আনবে জানি না, আশা ন হতাশা, তবে আমি ততদিন আশা বয়ে বেড়াবই সকল সংকোচ, দ্বিধা সত্ত্বেও যতদিন না আমি নিঃসংশয়ে বুঝবো এবার দাঁড়িয়ে পড়া দরকার আর ছুটে লাভ নেই। আমি নিজের মঙ্গল কামনা করি।

শনিবার ১০ মে, ২৭ বৈশাখ ১৩৮৭

হঠাৎ ঝড়ে তছনছ হয়ে গেলেও […] সঙ্গে সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েও যেন, গেল না, ঝুলে রইলো বিশ্রীভাবে। আজকে সম্পর্ক চুকে গেলেই ভালো হতো, স্বস্তিজনক হতো। এটা চুকবে বুঝতে পারছি। আজকে মহিলা উচ্চারণ করলেন, I have such character এখানে characterটা আমি।  এমন স্নায়ুছেঁড়া উত্তেজক মন্তব্য তিনি করলেন। তার হলুদ রঙের গাড়িটা তিনি চালাচ্ছিলেন। আমি পাশে বসে। আমাকে তিনি ফার্মগেট পর্যন্ত lift দিচ্ছিলেন, এটা অবশ্য কদাচিত ঘটে, আমি পারতপক্ষে তার গাড়িতে চড়ি না; আজকে চড়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, তারপর নাটকের একটি দৃশ্য অভিনীত হলো গাড়িতে। আমি তাকে আজও পুরোপুরি চিনলাম বোধহয়। ‘বোধ হয়’ বলার কারণ এর আগেই বোধ হয় আমি তাকে চিনেছিলাম। আজকে সে পরিচয়টা পরিষ্কার হলো। […] ব্যাপারে আমার একটি সহানুভূতি ও পক্ষপাত ছিল। ব্যাপারটা মানসিক। আমার ধারণা ছিল, এখনও আছে, মহিলা খানিকটা পোড় খাওয়া এবং খানিকটা গভীরতা আছে, যে গভীরতায় ব্যক্তিত্বের বিকাশের খানিকটা স্পৃহা আছে। কিন্তু সচেতনা এবং চেতনা স্বভাবতই খুবই অল্প। ফলে তার মনে সুন্দরকামনার যে একটা অবয়ব আছে বলে মনে হয় সেটা ঘন কুয়াশার মতো অস্পষ্ট অথচ তার ঘাটিগুলো দিনের আলোর মতো মূর্ত। তিনি মূলত স্বার্থপর। সেটা জেনেও আমি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখায় আগ্রহী ছিলাম। আজকে আমার মনে হলো তিনি সর্বাত্মকভাবে স্বার্থপর।
চরম আত্মরতির ব্যক্তি। আমি তাকে একটা কথাই বলতে চেয়েছি তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক […] দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় যেমন তার সঙ্গে আমার সম্পর্কের দ্বারা [ …] সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত নয়। অন্তত খুঁটিনাটি কীসব নিয়ে তারা বিবাদ করবেন আর সেই বিবাদে আমি পক্ষালম্বন করবো সেটা আমার দিক থেকে যৌক্তিক নয়। আর এটাই […] ফেটে পড়ার কারণ। যিনি আমাকে আহত করলেন ঠিক কিন্তু সেই মুহূর্তে তার মুখাবয়ব দেখে নিলাম। তিনি চান আমি, আমরা […] বয়কট করি। কাওরণ তার মতে তাদের মধ্যস্থিত বিবাদের জন্য […] দায়ী, […] জটিল মহিলা ইত্যাদি। হতে পারে। কিন্তু সেটা আমি অনুভব না করা পর্যন্ত […]  কথা আমি গ্রহণ করতে অপারগ। […] কতগুলো দোষ থাকলেও তার ভালো দিক আছে বলেই আমার ধারণা এবং যে ভালো দিক আমার ভালো লাগে। একথা আমি […] অনেক আগেই বলেছি […] আমার ভালো লাগে। এই কথা তিনি ভোলেননি, ব্যাপারটা তাকে গুরুতরভাবে বিধেছে মনে হয়। তার একটা অভিযোগ তাকে এড়িয়ে চলছি, ব্যাপারটা মোটেও সত্যি নয়, অথচ […] সঙ্গে ঠিকই আড্ডা দিচ্ছি কেন? […] ভাবছে তিনি […] কাছে হেরে যাচ্ছেন। তিনি বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তিনি করতলগত করতে চাচ্ছেন সতেচন বা অবচেতন যেভাবেই হোক। আশ্চর্য! আর সেটা হতে না চাইলে, বন্ধু সহকর্মীদের সকলকেই ভালবাসি এটা বললেই তিনি বিকারগ্রস্ত হচ্ছেন। আমাকে ঘৃণা করেন তিনি এ কারণে। তিনি বড় হতে চান, প্রতিভাত হতে চান আকাশছোঁয়া। আর এ আত্মপ্রেমে তিনি নির্মম রকমের একাগ্র। আমার ধারণা তিনি বড় হতে পারতেন, কিন্তু আত্মপ্রেম তাকে আস্তকুড় পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

শহীদুল জহিরের ডায়রির একটি পাতা

সোমবার ১২ মে, ২৯ বৈশাখ ১৩৮৭

যা ভেবেছিলাম, যে ভয় পেয়েছিলাম, ঘটনা তেমনই ঘটল। […সঙ্গে] সম্পর্ক ঝুলেই রইল। পরশুদিনই বুঝতে পেরেছিলাম […] compensate করার চেষ্টা করছে। মহিলা ভুল বুঝতে পেরেছেন কিনা জানি না, আমার ধারণা তার আত্মপ্রেমের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছু এমনকি তেমন ধরনের কোনো আত্মপোলব্ধি তিনি গ্রহণ করতে প্রস্তুত নন। তিনি আমাকে বারে বারে বলছেন ব্যাপারটা ভুলে যেতে। তার কথা তিনি উত্তেজিত হয়েছিলেন। তিনি এই জিনিসটা স্বীকার করতেন না যে ব্যাপারটা হঠাৎ উত্তেজনার চাইতেও গভীর কিছু ছিল। আজকেও তিনি একই কথা বললেন। আমি আজকেও কিছু বললাম না। কে যে আজকেও কিছু বললাম না বুঝি না। আসলে স্বীকার করা বোধ হয় ভালো অনেক সময়ই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কথাটি বলতে ব্যর্থ হই আমি। এটা হয়তো চা রিত্রিক দৃঢ়তার অভাব। অনেক ব্যাপারে আমি দৃঢ়তা দেখাতি পারি। আমি কিন্তু একই সঙ্গে এও জানি অনেক সময়ই আমি ব্যর্থ। আসলে স্নায়ুর চাপ এড়ানোর একটা প্রবণতা আমার আছে। গুটিয়ে থাকার প্রবণতার মূল কারণ বোধ হয় এটাই। স্নায়ূর চাপে শারীরিকভাবে অসুস্থ লাগে আমার। আর অতি অল্প কারণেই আমি যেহেতু স্পর্শকাতরতার শিকার হই, সেই জন্যেই চুপ করে থাকতে ইচ্ছে করে অনেক সময়। স্পর্শকাতরতার বাহুল্য আমার স্নায়ু ধ্বংসের একতি অন্যতম, বলা যায়, একমাত্র কারণ। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছি আর সেজন্য আমার প্রয়োজন উত্তেজনা এড়ানো। এটা আত্মপ্রবঞ্চনা নয়। সে জন্যই […] সঙ্গে ঝগড়া না করে আমি গুটিয়ে থাকি।

মঙ্গলবার ৩ জুন, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৭

রুবিয়ার কথা বেশি করে মনে পড়ছে। […] পিয়ন রুবিয়া। এরা যখন  চাকরি করতে আসে তখন তার প্রয়োজনীয়তার চরিত্রটা একদম সহজে বোঝা যায়। […], […], […] এদের প্রয়োজন ভিন্ন প্রকৃতির। একটু ভালো থাকা, একটু কিছু করা, এই। আর রুবিয়াদের চাকরির ব্যাপারটা অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। রুবিয়ার বয়স বিশ হবে কি? হতে পারে। মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা। আজকে দেখলাম বারান্দায় গ্রিলে হাত রেখে হাতের উপর মাথা রেখে দাঁড়িয়ে আছে। খুব ক্লান্ত মনে হলো। মনে হলো কেমন অসহায়, বিষণ্ণ। আসলে ঐ মুহূর্তে মনে হয়েছিল রুবিয়া তার চাইতেও অনেক বেশি ভয়াবহ রকমের বিপন্ন একজন মানুষ। […] বললাম ওকে ছুতি দিতে। দরখাস্ত দিয়ে ও maternity leave এ চলে যাক। কিন্তু সমস্যা শুধু ছুটি নয়। জানতে পারলাম ডাক্তার ওকে এক-রে করতে বলেছে। ওর ধারণা ওর পেটের সন্তান এখন মৃত। কারণ গত বিশ দিনের মতো ব্লাচ্চার কোনো নড়াচড়া নেই। প্রায় বিশ দিন আগে ওর স্বামী ওর পেটে লাথি মেরেছিল। মনে পড়ে মাও সেতুংয়ের একটি কথা, এ ধরণের সমাজে পুরুষ ও রমনী উভয়েই অত্যাচারিত বিভিন্ন অত্যাচারীর দ্বারা। তবে মেয়েদের ক্ষুদ্র মূঢ় ভাষাহীন একতি মুখ যে চরম দারিদ্র্যের ভেতর প্রেমহীন সংসারে বসবাস করতে করতে পেটে প্রথম সন্তান ধারণ করেছিল। একটুকুও কি সুখী বোধ করেনি মেয়েটা? করেছিল বোধ হয়। হয়তো কল্পনায় একটু অজানা আশাও ছিল। এখন সে অপেক্ষা করছে মৃত সন্তানের জন্ম দেয়ার জন্য; আমাদের কতজনের কত রকমের সংকট আছে। আমরা বিমর্ষ হই, হতাশ হই। রুবিয়ার কি হবে? ভাষাহীন বোধহীন জন্তুর মতো রুবিয়ারা ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। মানুষ মানবতা ধ্বংসের মুখোমুখি তবু এই সমাজটাকে,  ___।

 

বুঝবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ৭ আশ্বিন ১৩৮৭

আব্বার সঙ্গে হঠাৎ বিনা কারণে খারাপ ব্যবহার করে ফেললাম। আগামীকাল বিসিএস পরীক্ষায় নির্বাচিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। আমিও নির্বাচিতদের একজন। মেডিকেল বোর্ডের সামনে যাওয়ার আগে বুকের এক্স-রে এবং চোখের চশমার প্রেসক্রিপশন নিতে হবে। সেগুলো আমি করে ফেলেছি আজকে শেষ অর্ধেক বেলার মধ্যে, আজকে দুপুরে কেবল জানতে পেরেছি কালকে পরীক্ষা। আব্বা সন্ধ্যার পর আমি কেবল ফিরে ঘরে বসে আছি, এসে জানতে চাইলেন এক্সরে আর অন্যান্য জিনিস করা হয়েছে কিনা। আমি সোজাসুজি সহজভাবে উত্তর দিতে পারতাম, কিন্তু তা না দিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করলাম, ব্যাপারটা খুব বাজে হয়ে গেছে। আব্বা মনে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছেন। আমার ভিতরে রয়ে গিয়েছে এক চিরন্তন অপ্রকাশযোগ্য ক্ষোভ, যে ক্ষোভের আকার নাই, প্রকার নাই, তবু আছে। আমি উৎকেন্দ্রিক হয়ে গেছি, ভালো-মন্দের পার্থক্য নির্ণয়ে অক্ষম হয়ে যাচ্ছি। আমি কেন কারো ভালোবাসা চাই না, কারু কাছ থেকে কোনো সাহায্য সহানুভূতি কোমলতা কিছুই চাই না, কেউ তা দিলে এলে ঘৃণায় ফিরিয়ে দেই। সব বুঝি, বিকৃতি এসে গেছে, কিন্তু নিজেকে আর বদলাতে পারি না। আমাকে অমানুষ বানাবে হয়তো!

২৫, ২৬, নভেম্বর, ৯,১০ অগ্রহায়ণ ১৩৮৭

এটাকেই বোধ জীবন নাটক বলে। Human Drama। ERD-তে আমাদের এডহক চাকরির নিয়মিতকরণের জন্যে আমরা পরীক্ষা দিয়েছিলাম। পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে PSC থেকে informally ফলাফল জানা গেছে। আমি উত্তীর্ণ হইনি। মনটা ভালো নেই। আমার জায়গায় ফরিদ এসেছে, ফরিদ  ERD-তেই একটি প্রকল্পে চাকরি করে। ফরিদের বাবা সংস্থাপন বিভাগের যুগ্ম সচিব। এরকম একটা প্রচারণা ছড়িএ পড়েছে ফরিদ ওর বাবার তদবিরে এসেছে। এ প্রসঙ্গে আমি কিছু বলিনি, গুজব সত্যি হতে পারে, নাও হতে পারে, ফরিদ ভালো পরীক্ষা দিয়ে যোগ্য হিসেবেই এসে থাকতে পারে। আমার ব্যর্থতা আমি চুপচাপ, সহজভাবে গ্রহণ করেছি যদিও মন ভীষণ খারাপ। আজকে হঠাৎ ফরিদ আমার ঘরে সে উপস্থিত, সে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি। ও জানতে চাইল ও যে উত্তীর্ণ হয়েছে খবরটা সঠিক কিনা। আমি আমার বিশ্বাসের কথা বললাম। ও খুশি হতে চাইলেও হতে পারল না। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক সব সময়ই ভালো। আমি ওর সঙ্গে ভালো ব্যবহারই করলাম। জানালাম যোগ্যতাই বাছাইয়ের মানদন্ড এবং সে মানদন্ডে ও উত্তীর্ণ হয়েছে এটাই সত্যি, তারপরে যত কথাই হোক না কেন। এটা আমার মনের কথা তবু, এত ভালো ব্যবহার করলাম। বটে, কিন্তু বিষণ্ণতা ঠেলে দিয়ে থাকতে পারলাম না। একইস সঙ্গে ফরিদকে বললাম ও যোগ্য বিবেচিত হয়েছে, সেটা আনন্দের কিন্তু আমি দুঃখিত এবং বিষণ্ণ কারণ আমি যোগ্য বিবেচিত হইনি, আমাকে সরিয়ে দিয়ে ফরিদ আসছে বলে। এ এক অস্বাভাবিক বৈপরীত্য, হয়তো মানুষই এর মুখোমুখি।

আরও দেখেন

শহীদুল জহির-এর অনুবাদে বোর্হেসের গল্প...   অযোগ্য বন্ধু মূলঃ হোর্হে লুই বোর্হেস ভাষান্তরঃ শহীদুল জহির   শহরটি সম্পর্কে আমাদের মানসচিত্র সর্বদাই কিছুটা পশ্চাৎম...
No Comments Yet

Comments are closed

error: