fbpx

সরিষার ভূতঃ সত্য বনাম মধ্যপন্থা

একটা সাধারণ মত পার্থক্যের ঘটনা দিয়াই চলেন আলাপ শুরু করি। ধরেন, আপনি আপনার নতুন বউরে নিয়া বাসর রাতে বারান্দায় বইসা আছেন। মাত্র কিছুক্ষণ আগে বিয়ার অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সব ঝক্কি-ঝামেলা শেষ কইরা বাসায় আসছেন, তারপর এখন শান্তিতে একটু হাওয়া খাইতেছেন। দুইজনই খুব হয়রান। একজন আরেকজনের গায়ে হেলান দিয়া বইসা হালকা রসালাপের মাদকতায় মইজা আছেন। হঠাৎ সামনে দিয়া কি জানি একটা সাঁই কইরা উড়াল দিয়া গেল। আপনারা দুইজনই বেপারটা খেয়াল করলেন। আপনি দেখছেন জিনিসটা আসলে একটা পেঁচা ছিল। বউরে বলার পরে বউ বলল, “নাতো! কি বল? আমি তো দেখলাম একটা বাদুড়।” আপনেরা দুইজনই একইভাবে নিজেদের চোখে দেখা জিনিসটার বেপারে নিশ্চিত। এখন আপনি কি গোঁয়ার্তুমি কইরা বউরে বলবেন যে, “না, তুমি নিশ্চয়ই ভুল দেখছো। ওইটা আসলে পেঁচা ছিল।” তাইলে সংসার জীবনের প্রথম রাতে বউ আপনার বেপারে কি ধারনা নেবে? আপনি কি এই বাসর রাতের শুরুতেই নিজেরে গোঁয়ার বা ঘাড়ত্যাড়া বইলা বউয়ের সামনে নিজেরে উপস্থাপন করার ইচ্ছা করবেন? বা আপনের বউইবা কি করবে? সেও কি একইভাবে নিজেরে উপস্থাপন করবে? খুব সম্ভবত না। আপনেরা দুইজনই নিজ নিজ মতের বেপারে নিশ্চিত হওয়ার মাত্রা কমাইবেন। অপরপক্ষের মত সঠিক হইতেও পারে এই ভাইবা দুইজনই বেপারটা মাইনা নিবেন। ঝামেলায় যাওয়ার কোন মানেই হয় না। এইটাই হইল নমনীয়তার প্রথম ধাপ, যেইখানে একজন মানুষ তার মতবিরোধী অপর একজনের মতরে খোলা মনে গ্রহণ করে আর নিজের ভুল হইয়া থাকলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা শোধরানোর চেষ্টা করে।

বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা যেই ধরণের মতপার্থক্যের সাথে পরিচিত হই সেইগুলা আবার সাধারণত এত সহজ বেপার হয় না আর ওইগুলার বেপারে আমাদের আচরণেও তফাৎ থাকে। সেইগুলা কেমন? যেমন ধরেন আপনার বউ আর আপনার তর্ক যদি বাদুড় আর পেঁচা নিয়া না হইয়া কোন অশরীরী বিষয় নিয়া হইত যেইখানে আপনি ভূত-জীন এইগুলায় বিশ্বাস করেন আর আপনার বউ করে না, তাইলে ঘটনা কেমন হইতো? আগের তর্কের বিষয়বস্তু ছিল এমন জিনিস (বাদুড় আর পেঁচা) যার অস্তিত্ব নিয়া আপনাদের কারো মনেই কোন সন্দেহ নাই। তাই, অস্তিত্বের প্রশ্নে না যাইয়া আপনারা সরাসরি কে কি দেখছেন তার আলোচনায় পৌঁছাইয়া গেছেন। কিন্তু ভূত-জীনের আলোচনায় যাওয়ার আগে আপনাদের দুই পক্ষরেই আগে অশরীরী বিষয়বস্তুর অস্তিত্ব স্বীকার কইরা নিতে হবে, তারপর তর্ক শুরু হবে এই নিয়া যে যেই জিনিসটা আপনারা দেখছেন সেইটা আসলেই অশরীরী কিছু ছিল, নাকি না? অথবা, যদি দুইজনই এই মতে পৌঁছাইতে পারেন যে অশরীরী কোন কিছুর অস্তিত্ব নাই, তাইলে তো একটা অবশ্যম্ভাবী তর্কের হাত থেইকা দুইজনই বাইচা গেলেন। প্রথম ক্ষেত্রে আপনার বউরে তার এতদিনের বিশ্বাস জলাঞ্জলি দিতে হইবো আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনার। যুক্তি-তথ্য নির্ভর এই তর্কগুলা হইলো গভীর মতপার্থক্য। এইগুলা সত্য-মিথ্যা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস ইত্যাদির গোড়া ধইরা নাড়া দিয়া যায়। আর, এইগুলাই আমাদের চারপাশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ইত্যাদি নিয়া যেই তর্কগুলা হয়, তা এই কাতারেই পরে। এইটাই আমাদের মূল আলোচ্য। তবে ভাইবেন না এই আলোচনার পরে এইধরনের তর্ক সমাধানের রাস্তা পাইয়া যাইবেন। কারণ, শুধু গ্রহণযোগ্যতা আর পরমতসহিষ্ণুতা দিয়া এইগুলার সমাধান হয়না। এই আলোচনায় শুধু কিছু বিষয়ের স্বরূপ নিয়া নিশ্চিত হইবেন বইলা আশা দেওয়া যায়।

এইধরণের গভীর মতবিরোধের আরেকটা ঘটনা চিন্তা করেন। ধরেন, আগের রাতে বিয়ার অনুষ্ঠানে সবাইর মন রক্ষা কইরা একটু একটু খাইতে খাইতে অনেক খাওয়া হইয়া গেছে আপনার। একে তো ভারি খাবার তার উপর পেটে পড়ছে অতিরিক্ত পরিমাণে। সকাল থেইকাই ‘ছোট ঘরে’ দৌড়াদৌড়ি চলতেছে। আপনের এক দোস্ত জানাইলো অর্জুনের ছালের গুঁড়া পানিতে মিশাইয়া খাইলে খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হইয়া যায় পেটের সমস্যা। আগে থেইকাই আপনের ইউনানী চিকিৎসায় ভক্তি আছে। বন্ধুর কথায় দৌড়াইয়া যাইয়া বহু খোঁজাখুঁজি কইরা অর্জুনের ছালের গুঁড়া কিনা আনলেন। তারপর পানিতে মিশাইয়া যখন খাইতে যাইবেন তখন নতুন বউ আইসা মুখ বেঁকাইয়া কইলো, ‘কাদা কাদা দেখতে কি খাও এইগুলা?’ আপনে কইলেন, ‘অর্জুনের ছালের গুঁড়া পানিতে মিশাইয়া খাই, পেটের অবস্থা খুব খারাপ কালকে খাওয়া-দাওয়ার পরে।’ ‘পেট খারাপ, তাইলে এইগুলা খাইয়া কোন লাভ নাই। এখন একটা সিপ্রোসিন (অ্যান্টিবায়োটিক) খাও। তারপর ডাক্তারের কাছে যাও। দেখ কি কয়।’ ‘ঔষধি গাছের ছাল-বাকল-পাতা-রস-শিকড় এইগুলা দিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল ওষুধ তৈরি হয়। এইসব প্রাকৃতিক উপাদান দিয়া বানানো ওষুধে কোন সাইড-ইফেক্টও নাই।’ ‘শোন, রোগের ওষুধ বানানোর কিছু বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া আছে। জিনিসপত্রের গুনাগুণ নিয়া ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ওইগুলা গবেষণাগারে জীবাণুর উপরে প্রয়োগ করার পরে যখন দেখা যায় জিনিসগুলা মানুষের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব ছাড়াই একটা রোগ নিরাময়ের কাজ করে, তখনই ওষুধ বাজারে ছাড়া হয়। এইজন্যই ওষুধ কোম্পানিগুলা বছরের পর বছর তাদের গবেষণা আর উৎপাদন চালাইয়া এতদিনে এতদুর আসতে পারছে। কালকে রাতে নিচে দেখছি ফার্মেসী আছে। যাও আপাতত সিপ্রোসিন নিয়া আসো।’ এখন আপনি কি করবেন? আপনি কয়েক দশক ধইরা ইউনানী খাইয়া আসতেছেন। ওষুধ ভাল কাজেও দিতেছে। এমনও হইতে পারে যে, আপনার পরিবারে অনেক বছর ধইরা ইউনানীর চল আছে। নতুন বউয়ের এক কথায় কি আপনি আপনার এত বছরের আস্থা ভাইঙ্গা সিপ্রোসিন আনতে ফার্মেসী যাইবেন? আর, নতুন বউ অ্যালোপ্যাথি নিয়াও ভুল কিছু কি বলছে? বা, ওষুধ নিয়া গবেষণার কথাও কি ভুল কিছু বলছে? তাইলে যদি সে ঠিক বলে, তাইলে আপনি কি ভুল? হয়তোবা, আপনার পছন্দের ইউনানী বা কবিরাজি চিকিৎসা আর ওষুধ অ্যালোপ্যাথির মত র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়ালের মাধ্যমে বা অন্য কোন বৈজ্ঞানিক রাস্তা হইয়া আসে নাই, কিন্তু তাই বইলা এতদিন পরে আইসা সঠিকভাবে কাজ করার পরেও কি তা আপনার কাছে ভুল বা মিথ্যা হইয়া যাইবো? যদি ধরি ‘হ্যাঁ’, তাইলে ওষুধের রাজ্যে শুধু একটাই সত্য, আর তা হইলো অ্যালোপ্যাথি; এইটা মাইনা নিতে হইবো। আর যদি ধরি ‘না’, তাইলে অ্যালোপ্যাথি ছাড়াও আরো যে সত্য একই সাথে চিকিৎসা জগতে পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে সেই সত্যটা মাইনা নিতে হইবো।

আপনার বউ কি ভাইবা কথা গুলা কইছে, তা আপনি জানেন, কিন্তু তা চিকিৎসা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠিতের প্রতি একমুখিতা প্রকাশ করে বইলা আপনি তা মানতে নারাজ। এছাড়াও আপনি জানেন যে পশ্চিমি খণ্ডতাবাদ বা বস্তুবাদনির্ভর যেই বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চলমান আছে তা মানুষ, তার সব রোগ আর পিছনের সব জীবাণুর বিষয়ে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে এখনও অক্ষম। সত্য বলতে গেলে অ্যালোপ্যাথি যে পদ্ধতিতে রোগ আর জীবাণু নিয়া কাজ করে সেই একই রাস্তায় ইউনানীরে হাঁটাইতে চাওয়াটাও ভুল। তাই আপনি হয়তোবা ভাবতেছেন, চিন্তার এই জায়গাটায় আসার আগেই আপনার বউ কিভাবে একটার চেয়ে আরেকটা ভাল এইরকম একটা মত প্রকাশ করে? একই প্রশ্ন কিন্তু আপনার বউয়ের দিক থেইকা আপনার বেলায়ও খাটে। শেষমেশ আপনাদের দুইজনেরই বক্তব্য এমন এক জায়গায় পৌঁছায় যেইখানে আপনারা কেউই আর নিজের কথার সপক্ষে যুক্তি-তর্ক দিয়া একটার চেয়ে আরেকটা ভাল বা একটা ঠিক আরেকটা ভুল এইরকম আলোচনা উপস্থাপন করতে পারবেননা। কারণ, এই পর্যায়ে এমন কোন একক পদ্ধতি নাই যা দিয়া আপনাদের দুইজনের মতরে পরীক্ষার মাধ্যমে কোন একক সত্য বাইর হবে যা আপনারা দুইজনই মাইনা নিবেন। অর্থাৎ, কোন মধ্যপন্থা নাই। আপনেরা একটা গভীর মতপার্থক্যে আটকাইয়া গেছেন।

সামাজিক প্রেক্ষাপটে যতধরনের আলোচনা আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ, তার সবগুলার মূলে আছে আর নাহয় অন্তত কোন না কোনভাবে তার মধ্যে দ্রবীভূত হইয়া আছে এই গভীর মতপার্থক্য। এই যেমন, জলবায়ু পরিবর্তনের কথাই ধরেন। একটা দল আছে যারা এই বিষয়ে কোন বিশ্বাস রাখতে চায়না। এই জন্য তারা এই জলবায়ু পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেইকা শুরু কইরা সব খারিজ তো করেই, আবার এর পিছনে বিজ্ঞান নামক যেই জিনিসটা কলকাঠি নাড়তেছে তার কর্তৃত্ব নিয়া প্রশ্ন তোলে। এইরকম আরো অনেক দল-মত আছে। যেমন, শিশুদের টিকা বিরোধী মতবাদ, ল্যাবে উদ্ভাবিত জিএম (জেনেটিকালি মডিফাইড) খাবার, তারপর ধরেন আমরা কন্সপিরেসি থিয়োরি যারে বলি এইগুলা সবই এই ধরনের গভীর মতপার্থক্যের নমুনা।

শিশুদের টিকাবিরোধী বিজ্ঞাপন। সুত্রঃ ইন্টারনেট

সহজভাবে বলতে গেলে এইগুলার কোন সমাধান নাই। কারণ বেপারটাতো এমন না যে, আপনার বউ কি বলতে চাইতেছে তা আপনি বুঝতেছেন না বা তার যুক্তি আপনি ছুইড়া ফালাইয়া দিছেন। বেপার হইলো, আপনার বিশ্বাস আপনার জন্য এমন একটা অবস্থান তৈরি করছে, যেইখানে ‘এই এই কারণে আপনি ভুল’ এইটা বলার কোন উপায় নাই। আপনার বউয়ের বেলাতেও তাই। তাইলে এখন আপনাদের কি করার আছে? আপনারা কি আগের রাতের মত দুই মেরু থেইকা আরো মাঝের দিকে সইরা আইসা ভাববেন যে, অপরজন ঠিক হইলেও হইতে পারে? না। কারণ, নীতি এইভাবে কাজ করে না। আপনাদের একজন এই নীতিতে বিশ্বাসী, তাই আরেকজনের ওই নীতি ভুল এবং তার ওইখান থেইকা সইরা আসতে হবে এমনটা ভাবা আপনাদের যেকোন কারো জন্যই ভুল। তাই আগের রাতের ঘটনার সাথে এর মিল খোঁজার চেষ্টাটাও ভুল।

বেপারটা মজার। আপনি যখন উপরের মহলে থাকবেন তখন নিচের প্রজারা কি নিয়া কি ভাবতেছে সেইটা আপনি যখন প্রজার জ্ঞানগরিমার প্রতি সম্মান রাইখাও নিজের ভাবনার সাথে মিলাইতে যান, দেখবেন অনেকাংশেই মিলে না। আপনারা দুই পক্ষই অপর পক্ষরে বুদ্ধিমান আর সমঝদার মানতে রাজি, সম্মানেও একের প্রতি অপরের ঘাটতি নাই, কিন্তু ভাই, যা বলা হইলো তা মানতে নারাজ। কারণ, দুই পক্ষই দেখতেছেন যে আপনি ঠিক, অপরপক্ষ ভুল। তবে এই ক্ষেত্রে একদম উড়াইয়া দেওয়ার কায়দা থাকেনা, যেহেতু কোন একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হবে।

গভীর মতপার্থক্যের উতপত্তি কেমনে হবে তা আলোচ্য বিষয়বস্তুর গভীরতার উপর নির্ভর করে। একটু ভাবেন তো, আমরা একই পৃথিবীতে থাকি, মোটামুটি একই সাইজের মগজ দিয়া ভাবি, আর পশ্চিমে তো তথ্যের সরবরাহও সর্বসাধারণের জন্য সমানই, তারপরও আমরা জানা আর প্রমাণিত বিষয়ে কেন গভীর মতপার্থক্যে জড়াই?

কারণ, আমাদের বিশ্বাস  আর চিন্তাভাবনা আমাদের পরিচয়ের বিরাট বড় একটা অংশ। তাই কোন কারণে, যেকোন বেপারে, হউক তা প্রমাণিত বিজ্ঞান বা তথ্য-প্রমাণ সম্বলিত তত্ত্ব, আমাদের পরিচয়ের জায়গাটা যদি প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তখন আমরা তার পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেই। এই অবস্থান থেইকাই আমরা নিজের বিশ্বাসের গোরা শক্ত করতে সচেতনভাবে বা অজান্তে নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে প্রমাণ খুঁজি, আর স্বপক্ষের প্রমাণগুলারেই সত্য হিসাবে ধইরা এইগুলা ভুলও হইতে পারে এই ধরণের চিন্তা কইরা তারে প্রশ্ন কইরা পরীক্ষা করার আগেই মাথায় গাঁইথা নেই। এইখানেই শেষ না। তারপর, স্বপক্ষের যুক্তির বিপক্ষের মতরে হয় কড়া সমালোচনা করি আর নাহয় উড়াইয়া দেই। তাইলে কি বলা যায় যে বিশ্বাস হইলো আসলে মার্কা? যেমন, কেউ যদি বিশ্বাস করে পৃথিবীতে সন্ত্রাসবাদের জন্য মুসলমানরা দায়ী বা জলবায়ু পরিবর্তন বলতে আসলে কিছু নাই, তাইলে আমরা তারে একটা মার্কা দিয়াই দেই। আবার, কেউ যদি বাকস্বাধীনতা বা ভ্রূণহত্যা নিয়া কথা কয়, তারে আরেক মার্কা দেই। এইভাবেই সামাজিক প্রেক্ষাপটে মতপার্থক্যের রাজনীতিকিকরণ ঘটে। এইভাবেই আমরা একজন আরেকজনরে নৈতিকতা, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতের ভিত্তিতে আলাদা কইরা ফালাই। আর, সহাবস্থানের আলোচনায় না যাইয়া পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেইকা দূরেদূরে সইরা যাই।

গভীর মতপার্থক্য দিয়া শুরু, এরপর হাতাহাতিতে জড়াইয়া গেছেন ইউক্রেনের সংসদ সদস্যরা। সুত্রঃ সার্জেই শুযাভকভ/ এপি

জন রাউল নামের একজন রাজনৈতিক দার্শনিক বলছিলেন যে, উদার সমাজ কখনো তথ্য আর নাগরিকের মনের পরিচালক হইতে চায় না; তাই মতপার্থক্য স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। দরকারি নীতিনির্ধারণ তো মতপার্থক্যের কারণে আটকাইলে চলেনা। তাই উদার গনতন্ত্রের উতপত্তির সময় ধইরাই নেওয়া হইছে যে, সত্য নিয়া কোন মতপার্থক্য থাকবেনা। আর থাকলেও গনতান্ত্রিক উপায়ে তার প্রশমন সম্ভব। কিন্তু মতপার্থক্য থাকবে কি থাকবেনা এই নিয়া মতপার্থক্যে কি আসলেই এইভাবে কোন কিছু ধইরা নেওয়া যায়?


[সম্পাদকের নোটঃ বর্তমান লেখাটি  ক্লেমেন্স ক্যাপেলের ‘There is no middle ground for deep disagreements about facts’ নামক লেখার অনুবাদ। ক্লেমেন্স ক্যাপেল ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মিডিয়া কগনিশন এন্ড কমিউনিকেশন’ বিভাগের অধ্যাপক। লেখাটা অনেক টেকনিক্যাল তাই সহজে বোঝানোর সুবিধার্থে অনুবাদক অনেক বেশি স্বাধীনতা নিছেন। এইটারে অনেকাংশে পুনরায় লেখাও বলা যাইতে পারে। মাদারটোস্ট পন্ডিতি কপচানোর চাইতে পাঠকের সাথে এনগেইজমেন্টে বেশি আগ্রহী এবং পাঠক লেখাটা সহজে বুঝুক এইটা চায়। তাই মাদারটোস্ট এই ধরণের কাজে অনুৎসাহ দেয় না। কেউ যদি মূল লেখাটা পড়তে বা মূলের সাথে তুলনায় আগ্রহী হয়, মূল লেখাটা ইংরেজিতে পইড়া নিতে পারে।] 

আরও দেখেন

ছিদ্র নিয়া ছিদ্রযুক্ত আলাপ... অনেক নামে তারে চিনে মানুষ। কেউ ডাকে গর্ত বইলা, কেউ বলে ছিদ্র আবার কেউ কেউ ফুটা নামেও চিনে। কোন জায়গায় পাইবেন না তারে? তালায় চাবি ঢুকাইবেন ছিদ্র দিয়া, ...
হোসাইন মোহাম্মদ ওমর খৈয়াম
হোসাইন মোহাম্মদ ওমর খৈয়াম

কবি এবং অনুবাদক। সমাজ, মানুষ আর রাজনীতি পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে উপরে।

No Comments Yet

Comments are closed

error: