fbpx

১০-এর দশকের সেরা ১০ সিনামা (so far)

’১০-এর দশক শেষ হতে এখনো ২ বছর বাকি, কিন্তু আমরা, মাদারটোস্ট সিনে টিম ঠিক করছি দশকওয়ারি সিনামার তালিকা করবো উলটা দিক থেকে। ’১৭ মাত্র ফুরায় গেল, অস্কার সিজন শুরু হয়ে গেছে, ল্যাডি বার্ড আর কল মি বাই ইয়োর নেইমের হাইপ চলছে, এর মাঝে এরকম লিস্ট করা টাফ। আর লিস্ট সবসময়-ই সাব্জেক্টিভ। হয়তো আমরা যে সিনামাকে দুর্দান্ত ভাবছি সেই সিনামাই অন্য কারো কাছে রীতিমত প্রিটেনশাস। সো লিস্ট মানেই কন্ট্রোভার্সি — বিস্তর তর্কাতর্কি। তার উপর ২০১০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বানানো সব সিনামা চাইলেও দেখা সম্ভব না। তারমানে ডিজার্ভিং সিনামা বাদ পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।  এক্ষেত্রে সাহস দিতে আমাদের পাশে ছিলেন Jonathan Rosenbaum:

[D]uring the last of these decades, when Kiarostami was already making such masterpieces as  The Traveler  and  Two Solutions for One Problem, most of us knew next to nothing about Iranian cinema, but today—because we know now that we knew nothing then—we’re more apt to admit that there are possibly things going on today that we also don’t know about.

রসেনবাউমের মতন আমরাও স্বীকার করে নিচ্ছি আমরা আসলে জানি না তেমন কিছু, দেখি নাই অনেক কিছু। তারপরও আমরা চাই ফিল্ম নিয়ে চলুক নানান আলাপ-আলোচনা, তর্কাতর্কি, আর চলুক দুস্তরমতন সিনামা দেখা।


#১০

লেভিয়াথান (2014)


নীল রঙ তৃতীয় প্রাইমারি কালার হিসেবে বিবেচ্য। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুসারে নীল রঙ-কে ঈশ্বরের শক্তি বা ঈশ্বরের কথা বা পরমার্থে মহিমা প্রকাশ করে। লেভিয়াথান বলতেও অতিকায় বা ক্ষমতাসম্পন্ন বুঝায় যা পরবর্তীতে অতিকায় তিমির সমার্থ হয়ে ওঠে। লেভিয়াথান যেহেতু কিছুটা ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে ইন্সপায়ার্ড তাই এর নামকরণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড কালার নীল হওয়ার এটাই রহস্য!

ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের অনেক সিনেমায় দেখা যায়, বস্তি উচ্ছেদ করে দালান, শপিং মল উঠবে বা কোন ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠবে,সেখানে আরেকটা জিনিসের আবির্ভাব হয়, সে হচ্ছে একজন ওয়ান-ম্যান আর্মি উইদাউট খাকি! সেখানে সিনেমার ন্যারেটিভ হাইপারলিঙ্ক কনসেপ্টের মাধ্যমে শেষ হয়। স্টোরিলাইন এই সিনেমার ক্ষেত্রেও একটু মিল আছে কিন্তু এখানে কোন ওয়ান-ম্যান আর্মি নাই।

মিল বাদ থাকুক, এখানে কনটেম্পরারি রাশিয়ার সোশ্যাল পলিটিক্যাল কনফ্লিক্টটা তুলে ধরা হয়েছে ওয়াইড ফ্রেমে নীল ব্যাকগ্রাউন্ডে যা একজন সামান্য মোটর মেকানিকের সাথে অতিকায় ক্ষমতাধর পলিটিক্যাল দানবের লড়াই। না, মোটর মেকানিক কোন পলিটিক্যালি অ্যাক্টিভ পার্সন না বা বাংলাদেশের বেনসন বিপ্লবী না। শেষ পর্যন্ত টিকে উঠাটা এত বড় শক্তির সাথে কতটা পসিবল সেটা ডিরেক্টর কোন প্রকার প্রেসক্রিপ্টিভ সল্যুশন ছাড়াই বাস্তবে যা ঘটে তা দিয়ে শেষ করেন। লাস্ট সিনের সাথে অনেকেই তারকোভস্কির স্যাক্রিফাইস-এর তুলনা করে থাকেন, পল থমাস অ্যান্ডারসনের দেয়ার উইল বি ব্লাড-এর কিছু সিনেরও। তবে এই দুই ভদ্রলোক তাদের সিনেমায় নিজস্ব সিগনেচার মার্ক রাখেন। সো, কিছু ইন্সপিরেশন থাকলে মন্দ কি!

#৯

গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস (2013)

লিস্টে সবচে কম ডিউরেশন এই সিনামার। মাত্র ৪৬ মিনিট। এবং মাকোতো শিনকাইয়ের সিনামা ইউজুয়ালি যে দোষগুলায় দুষ্ট — চিজি মেলোড্রামা, ‘সবার-উপ্রে-প্রেম’, ভয়েস ওভারে ফিলোসফিকাল বকবকানি — তার সবগুলা এতে বিদ্যমান। ন্যারেটিভে এত্তগুলা দুর্বলতার পরেও এই সিনামা লিস্টিতে স্থান পাইসে কারন এর টপ-নচ জ-ড্রপিং অ্যানিমেশন কোয়ালিটি। আর্গুয়েবলি শিনকাই এই মুহূর্তে পৃথিবীর অন্যতম সেরা অ্যাানিমেটর। টপ-টিয়ের। গার্ডেন অফ ওয়ার্ডসের অ্যাটমোস্ফোরিক রেন্ডারিং, বৃষ্টি, রিফ্লেক্সশান, লেন্স ফ্লেয়ার সিমপ্লি মেস্মারাইজিং। এই সিনামা সুন্দর গল্প বলতে চায় নাই, চাইছে অডিয়েন্সের ইমোশন এলিভেইট করতে — জঁ আনুইয়ের নাটকগুলার মতন — ট্র্যাজিরোমান্টিক্যালি। আর এই কাজে শিনকাইয়ের প্রায় সব সিনামাই সফল। প্লট, ক্যারেক্টার আর্ক ফিল্মের বিগ পার্ট, মানি। কিন্তু ন্যারেটিভ-ই সিনামা নয়। সামটাইমস, আউটস্ট্যান্ডিং ভিজ্যুয়াল দুর্বল ন্যারেটিভ অ্যাস্পেক্টসওয়ালা সিনামাকেও আপলিফট করতে পারে। গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস তার পার্ফেক্ট এক্সাম্পল।

#৮

স্প্রিং ব্রেকার্স (2012)

এদেশীয় গ্রীষ্মকালীন ছুটির মতন-ই আম্রিকান স্প্রিং ব্রেক। আম-কাঁঠাল খাইতে খাইতে এক ঝাঁকা হোমওয়ার্ক করায় আমাদের ছুটির দিনগুলা সীমাবদ্ধ থাকলেও MTV, Coca Cola-র মার্কেটিং-ক্যাম্পেইনগুলার-দেখানো-আম্রিকান-ড্রিম ফুলফিল করতে ছেলেমেয়েরা পার্টি করতে চলে যায় আশপাশের বিচগুলাতে।

গ্ল্যামারাইজড এই তীর্থযাত্রায় গিয়ে হেডোনিস্টিক আম্রিকান ইয়ুথ আর তাদের বিকৃত মূল্যবোধ নিয়ে হারমোনি কোরিন স্যাটায়ার করছেন এক্সাক্টলি দ্য ওয়ে স্প্রিং ব্রেকার্স ডু পার্টিজ। দিস মুভি ইজ লাইক অ্যা পার্টি টু মক অল দ্য পার্টিজ ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। এই কারনে শুরুতে প্রচুর পোলারাইজিং সমালোচনা শুনতে হইলেও এই কয় বছরে এইটা কাল্ট ক্লাসিক সিনামা বইনা গেছে।

স্প্রিং ব্রেকার্স সিনামার একটি দৃশ্য

MTV স্টাইল এডিটিং, পপ কালচার, নিয়ন কালার, ফর্মার ডিজনি কুইন্স লাইক ভ্যানেসা হ্যাজেন্স & সেলেনা গোমেজ অন বিকিনিস — এত কিছুও যদি আপনাকে এই মুভি দেখতে আগ্রহী না করে তুলে তাইলে দেখেন হ্বার্নার হের্যোগ কী বলছেন:

“Three hundred years from now, when people want to look back at this time, they won’t go to the Obama inauguration speech, they will go to Spring Breakers.”

হ্বার্নার হের্যোগরে যদি না চিনেন তাইলে উই বেগ য়্যু, প্লিজ স্টপ রিডিং ফারদার অ্যান্ড ডু গুগোল হিম।

#৭

ফ্রান্সেস হা (২০১৩)

আর্লি ২০০০-এ আম্রিকায় ইন্ডি ফিল্মমেকাররা নতুন সাবজনরা তৈরি করে। লো-বাজেট, লো-ফাই ক্যামেরা, অ্যামাটার অভিনেতা আর ইম্প্রোভাইজড ডায়লোগ এবং প্লটের চে ডায়লোগে জোর দেয়া বাদেও নতুন এই সিনামাগুলার আরো কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল, লাইক: মেকারদের বয়স ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে, অভিনেতারাও সব ৩০ এর মধ্যে, চরিত্রগুলা আপার মিডলক্লাস, হোয়াইট কলার চাকরি করে এবং সিনামার কনভার্সেশানগুলা এরিক রোমারের ফিল্মের মতন — পার্সোনাল রিলেশানশিপ নিয়ে। ক্রিটিকরা এই টাইপের সিনামারে মাম্বলকোর নামে ডাকা শুরু করে যদিও এর মেকাররা এই টার্ম রিজেক্ট করছে।

মাম্বলকোর সিনামা দেখলে মনে হয় ২৫ বছরের কেউ অ্যা-উডি-অ্যালেন-ফিল্ম বানাতে চাইছে। ফ্রান্সেস হা এই মাম্বলকোর জন্রারে মেইনস্ট্রিম লাইমলাইট দিছে, আম্রিকা থেকে দুনিয়াব্যাপি মাম্বলকোরের অস্তিত্ব জানান দিতে সবচে বড় ভূমিকা রাখছে। এই ফ্রান্সেস হা জানে না জীবনে সে কি চায় এক্সাক্টলি, একটু আর্ট-কালচার করতে চায়, নৃত্যশিল্পি হতে চায়, আপার মিডলক্লাস লাইফ লিড করতে চায়। কিন্তু দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ যা করতে বাধ্য হয় — ঘুমাতে-না-দেয়া-স্বপ্নকে লাত্থি মেরে টাকা প্রসবকারি চাকরিতে ডুব দেয় — ফ্রান্সেস হা’ও শেষমেষ তাই করে, যদিও সে বুঝতে পারে কোন মানুষকে তার ক্যারিয়ার দিয়ে ডিফাইন করা যায় না এবং তা উচিতও না। নিউ ইয়র্কের ফ্রান্সেস হা’র সাথে মফস্বল থেকে ঢাকায় পড়তে আসা টুয়েন্টিপ্লাস যে কেউ নিজেকে মিলাতে পারবে। ড্রাই হিউমারে ভরা নোয়া বাউমবাকের ফ্রান্সেস হা সাদাসিধে কিন্তু মাস্টারফুল। মজাটা এইখানেই।

#৬

ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড (2015)

এই দশকে জন উইক  এবং জন উইক  চ্যাপ্টার টু, এজ অফ টুম্রো কিংবা দ্য রেইড-এর মতন অ্যাকশন ফ্লিক পাইছি আমরা যেগুলা শুধু ঢিসুম-ঢিসুম দিয়ে দুই ঘন্টা ভরায় তোলে নাই। প্লট, লাইটিং, ব্লকিং, কালার গ্রেডিং, ক্যামেরা কোরিওগ্রাফিতেও মুন্সিয়ানা দেখায় আমাদের নজর কারছে।

ম্যাড ম্যাক্সরে শুধু অ্যাকশন জন্রায় ফেলানো মুশকিলের। এইটা একাধারে পোস্ট অ্যাপোক্যালিপস্টিক-সার্ভাইভালিস্টিক-সাইফাই-অ্যাকশন ফ্লিক-রোড মুভি যেইটা আবার ফ্র্যাঞ্চাইজি!!! ম্যাড ম্যাক্স ফ্র্যাঞ্চাইজির এইটা ৪ নাম্বার সিনামা। আগের তিনটায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করছে মেল গিবসন। কিন্তু অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে এইটার পার্থক্য এইটা ৩০ বছর পর নতুন লিড নিয়েও আগেরগুলার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বানানো আবার আগেরগুলা না দেখেও এটার স্বাদ পুরোপুরি নিতে কোনো সমস্যা হয় না। অ্যান্ড দিস, মাই ফ্রেন্ড, ইজ রেয়ার, সো সো রেয়ার।

#৫

আঙ্কেল বুনমি হু ক্যান রিকল হিজ পাস্ট লাইভস (2010)

আপনার যদি সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাইলে এরকম ঘটতেই পারে যে একটা সিগারেট খাওয়ার পর লাইটারটা ছুড়ে মারছেন বিছানার আশেপাশে কোথাও। আয়েশ করে সিগারেট শেষ করলেন,পরের সিগারেটটা ধরানোর সময় লাইটার আর কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছেন না, আশেপাশে কেউ থাকলে তাকে ডাকবেন লাইটার সে দেখছে কিনা, কারো কাছেই লাইটার নেই। ঐ একটিমাত্র লাইটারই আছে।লাইটার নিয়ে আপনার মধ্যে তখন যে মানষিক ব্যাপারটা খেলা করবে তার প্রভাবটা আপনার সিগারেটের তৃষ্ণার ব্যস্তানুপাতিক।

আপনি মনে করতে থাকবেন লাইটার কোথায় ছুঁড়ছিলেন? নাকি ছোঁড়েন নি? আপনার পাশে এমন কেউ ছিল যার ভয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন কোন চিপায় চাপায়। নাকি অন্য কিছু? আশে পাশের যাকে ডাক দিলেন সেও অসমর্থ আপনাকে লাইটার দিতে, অগত্যা আপনি মনে করতে থাকবেন এবং সময়ের সাপেক্ষে একপর্যায়ে আপনার শরীর মন শান্ত হবে এবং মনে-পড়ার অপেক্ষায় থাকবেন।

আঙ্কেল বুনমিও ঠিক তাই, যে মৃত্যুর অপেক্ষার করছে আর লাইফ রিকলিং করতেছে। কেন করতেছে? কারণ তার আর কোন লাইফলাইন নাই। অপেক্ষা আর অপেক্ষা। আপনার যখন আর কিছুই করার সামর্থ্য নেই, আপনার পাশে থেকেও কেও নেই, তখন আপনার লাইফ রিকলিং করা ছাড়া আর কিছু করারও নেই। এটারই ভিজ্যুয়ালাইজেশন আঙ্কেল বুনমি হু ক্যান রিকল হিজ পাস্ট লাইভস

#৪

স্কট পিলগ্রিম ভার্সেস দ্য ওয়ার্ল্ড (2010)

২১শ শতক কমিক বুক অ্যাডাপ্টেশনের স্বর্নযুগ। আম্রিকান কমিক্স-বুক-অ্যাডাপ্টেশন মানেই বিলিয়ন ডলার কামানোর হাতছানি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সিনামা  কি কমিক্সের সেই সেন্সিবিলিটি স্ক্রিনে আনতে পারে? কমিক থেকে নেয়া কাহিনীর সেলুলয়েড রূপান্তর নিশ্চয় কমিক্স পড়ার স্বাদ দিতে পারবে না, তাই না? হাজার হোক দুইটা আলাদা আলাদা মিডিয়াম। বাট এডগার রাইট শুধু এই দুই মিডিয়ামকেই (ফিল্ম+কমিক্স) না, এর সাথে ভিডিও গেইমস কালচারকেও ব্লেন্ড করছেন হলিউড মিউজিক্যাল সিনামার রিদমে। পুরা সিনামা রাইটের ভিজ্যুয়াল কমেডি আর সিগনেচার শট ট্রাঞ্জিশন ছিল অনবদ্য। কমিক সিচুয়েশন ক্রিয়েট করতে এডিটিং আর মিউজিক কিউ দিয়া করা রাইটের এই ইউনিক ট্র্যাঞ্জিশান স্টাইল সিনেমাটিক ল্যাঙুয়েজে যে নতুন মাত্রা দিছে (উইথ কর্নেটো ট্রিলজি), ক্যান য়্যু ফিল দ্যাট? ওয়েল, আমরা পাই।

অ্যান্ড দ্যাট’স হোয়াই, উই লাভ স্কট পিলগ্রিম ভার্সেস দ্য ওয়ার্ল্ড

#৩

ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন আনাতোলিয়া (2011)

লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন,খোলা চুলে আপনার সামনে একটি মেয়ে বসে আছে। রিপুজনিত কারণে একটু পরপর তার দিকে তাকিয়ে তার মুখের এক্সপ্রেশনের কোন পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন না অথচ বাসে ১ টাকার দরকষাকষি নিয়া হেল্পারের সাথে জনৈক ভদ্রলোকের ধুন্ধুমার লেগে গেছে।তখন মেয়েটির প্রতি আপনার তাৎক্ষণিক কাম না জাগলেও যে মুগ্ধতা ক্রিয়েট হবে সেটা সেলানের ফ্রেমিং এবং ফ্রেমে অবজেক্ট নিয়া একটা প্যারাডক্সিক্যাল সিচুয়েশন ক্রিয়েট করবে।

অ্যানাতোলিয়া দেখতে সাউন্ড লাগবে না আপনার, আর যদি সাউন্ড ইউজ করেন তাইলে রিয়ার সাউন্ড ইফেক্টের সাথে সারাউন্ডিং সাউন্ডের যে সার্কেলিং সেটা আপনাকে মুগ্ধ না করে উপায় নেই। আর এই মুভির আর্কিটেকনোটিক ব্যাপারগুলার সাথে একটা আপেলের গড়িয়ে গড়িয়ে পড়া,পুলিশের টেম্পটেশন,উকিল,লাশের খোঁজাখুজি এবং বালিকার আবির্ভাব আপনাকে ভাবাতে পারে মানে ক্লিক করতে পারে।

লোকাল বাসের মেয়েটা যেমন নামার আগেই আপনার গন্তব্য এসে যায়, তেমনি পেইসের কারণে যদি অর্ধেক শেষ করে উঠে যান, এটা হবে দুনিয়ার সবচেয়ে ছোট লাভ স্টোরি!

#২

হার (2013)

সাই-ফাই সিনামার কথা শোনামাত্র মাথার ভিত্রে কিসের ছবি ভেসে ওঠে? এলিয়েন? ইন্টারগ্যালাক্টিক ঢিসুম-ঢিসুম? এ আই?

নরম্যালি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স জন্রার মুভিগুলায় সেলফ-ইম্প্রুভিং ম্যাশিনের প্রতিনিয়ত লার্নিং বা চিন্তা করতে পারা এবং ডিসিশান নেয়ার ক্ষমতা, ভবিষ্যৎ দুনিয়া আর সমাজকে কিসে রূপান্তরিত করবে সেইটার প্রেডিকশান ভিজ্যুয়াইজ করতে ব্যস্ত — হিউম্যান ভার্সেস এ.আই বাইনারি শত্রু শত্রু খেলায়। এসব এড়ায়ে হার বরং বুঝতে চাইছে এ.আই.-এর সাথে ভঙ্গুর মানব-সীমাবদ্ধতার রিলেশন কিরূপ হবে? ক্যামন হবে এ.আই.-এর সাথে মানুষের ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট? কতটা নির্ভরশীলতা বিরাজ করবে তাদের মাঝে? বাড়ন্ত-নলেজ ভবিষ্যৎ-মানুষকে কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে দাঁড় করাবে সেই প্রশ্নে না গিয়ে হার বরঞ্চ জানতে চাইছে যে সীমাবদ্ধতা মানুষকে মানুষ বানায়, ক্যামন হবে তার সাথে ভবিষ্যতের বোঝাপড়া।

#১

অ্যা সেপারেশান (2011)

ফারহাদির সিনামা দেখার সময় মনে হবে ক্লোজ আর মিডশটে স্টেইজপ্লে দেখতেছেন। জাস্ট প্রোসেনিয়ামের বদলে সত্যিকারের লোকেশন।
শুধু স্টোরি আর অভিনয়-ই না সাথে প্রত্যেকটা শট আর এডিটিং এই সিনামার হাঁসফাঁস অ্যাটমোস্ফিয়ার তৈরি করে দিছে। পুরো সিনামায় হাতেগোনা কয়টা প্রোফাইল শট পাবেন, ওয়াইড শট বলতে গেলে নাই-ই। অ্যাবাউট এলিতেও সেইম, যে কয়টা ওয়াইড শট আছে সবগুলার ব্যাকড্রপে সমুদ্র, এবং কারও না কারও পিওভি শট। আর মিঁজ-অ-সিন? জাস্ট মাইন্ডব্লোইং। দেয়াল, ফার্নিচারে প্রতিটা চরিত্র প্রত্যেকের থেকে সেপারেটেড হয়ে আছে, কাঁচের ভিতর দিয়ে দেখছে একে অপরকে।

আসগার ফারহাদির সিনামার অন্যতম গুণ পার্সিয়ান হয়েও তারা বিশ্বজনীন। তার সিনামার প্লট দুনিয়ার যেকোন দেশ বা সোসাইটিতে নিয়ে ফেলান, আপনি সেইম সিনামাটাই পাবেন শেষমেষ। ন্যাশনাল সিনামার এই ওয়ার্ল্ড সিনামা হয়ে ওঠাই সিনামার তথা তামাম দুনিয়ার যাবতীয় আর্টের মেইন কনসার্ন। আর তাই আমরা মনে করি, অ্যা সেপারেশন এই দশকের সেরা সিনামা।


সো, হোয়াট ডু য়্যু থিঙ্ক অফ আওয়ার লিস্ট? ইজ ইট টোটাল বুলশিট? ডিড উই মিস সামথিং ওর্থ? হোয়াট উড বি ইয়োর পিক্স? প্লিজ কমেন্ট বিলো…

আরও দেখেন

ঋত্বিক ঘটক: সিনামা পুনরাবিষ্কার... ঘটক কখনো জাক তাতির মাস্টারপিস ‘মঁশিয়ে উলো’স হলিডে’ (১৯৫৩) দেখছিলো কিনা আমার জানা নাই, কিন্তু যতবার ঘটকের সেকেন্ড ফিচার অযান্ত্রিক দেখি, তাতির সিনামার ...
ট্যারান্টিনো on পাল্প ফিকশন... যখন পাল্প ফিকশন নিয়ে কাজ শুরু করি তখন যেকরেই হোক একটা ফিচার ফিল্ম বানাইতে হবে — এই ধান্ধায় ছিলাম। ঠিক করলাম ছোটখাট একটা ক্রাইম স্টোরি লিখে সেটা নি...
No Comments Yet

Comments are closed

error: